মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবকে একটি অদ্ভুত বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস বা আইএফইএস বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতেই এই অধ্যাদেশটি করা হয়েছিল এবং এটি জুলাই সনদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐকমত্য থেকে পিছিয়ে আসা জাতির জন্য একটি বেদনাদায়ক ইতিহাস তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যে গণভোটে ইতিবাচক রায় দিয়েছেন। জনগণের এই রায়কে উপেক্ষা করে অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা করা হলে তা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
তার মতে, বর্তমান সরকার বা সংসদ কোনো সংবিধান মেনে গঠিত হয়নি বরং এটি জুলাই আন্দোলনের ফসল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বা জুলাই আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো প্রচলিত সংবিধানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে না দিয়ে সবার সুমতির আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতের এই নেতা মনে করেন, সংসদই হওয়া উচিত দেশের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্র। সে ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান গুরুত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। তিনি সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর পরিবর্তনের বিষয়েও প্রতিনিধিদলের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করলে সংসদীয় নেতা বা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি জবাব দেওয়ার প্রথা থাকলেও বর্তমানে সেটি দেখা যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকছেন এবং অন্য কেউ উত্তর দিচ্ছেন, যা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। সংসদকে কার্যকর করতে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেমের যথাযথ অনুসরণের ওপর জোর দেন।ব্রিফিংয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। মিলন বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার বৈধতা থাকলে বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর গভীর নজরদারি করতে এবং গঠনমূলক সমালোচনা করতে সক্ষম হতো। এতে সংসদের কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, তারা অতীতে অনেক রাজপথের আন্দোলন ও জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, কিন্তু এখন তারা সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতি রেখে যেতে চান। পুরোনো ধারার রাজনীতি বা কারণে-অকারণে রাজপথে নেমে আসার সংস্কৃতি বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে দেশ গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিনিধিদল জামায়াতের এসব প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে এবং তারা একটি সমন্বিত রিপোর্ট তৈরি করবে বলে জানানো হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন