রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিএনপি কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন জাগপা নেতা রাশেদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

বিএনপি কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন জাগপা নেতা রাশেদ

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা-এর মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে সম্বোধন করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং একইসাথে নিজের দেওয়া বক্তব্যের একটি বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। 

গত ১৫ এপ্রিল একটি আলোচনা সভায় তার দেওয়া ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন।

লিখিত বক্তব্যে রাশেদ প্রধান জানান যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি তার বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাষণে একটি বিষয় বারবার বলে আসছেন। তার দাবি অনুযায়ী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বর্তমান বিএনপিতে অনুপস্থিত। 

তিনি মনে করেন তারেক রহমান তার বাবা-মায়ের আদর্শ অনুযায়ী দল পরিচালনা করছেন না। তবে গত বুধবারের সভায় তিনি ‘কুলাঙ্গার’ শব্দটি ব্যবহার করায় বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই নেতা ব্যাখ্যা দেন যে, ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো বংশের কলঙ্ক। তবে যেহেতু এই শব্দ ব্যবহারে বিএনপি কর্মীরা কষ্ট পেয়েছেন এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাই তিনি বিনম্রভাবে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং ভবিষ্যতে এই শব্দ আর ব্যবহার করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন যে, তার এই বক্তব্যের পর তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে বিব্রত করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া তার ব্যক্তিগত সহকারী জনিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা দেওয়া হয়নি। আইনিভাবে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, তার মরহুম পিতা জাগপার প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধান এবং দাদা গমীর উদ্দিন প্রধানকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে শফিউল আলম প্রধানকে ‘রাজাকার’ বলায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে প্রথম পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন শফিউল আলম প্রধান। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর চক্রান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।রাশেদ প্রধান আরও উল্লেখ করেন যে, তার দেওয়া এই বক্তব্য ১১ দলীয় জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয় বরং এটি তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মব কালচার বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছেন এবং তারেক রহমান অতীতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা যা বলেছিলেন, 

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার ও বিএনপি এখন কী ভূমিকা নেয় সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সবশেষে তিনি পুনরায় বিএনপি সমর্থকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তার অনিচ্ছাকৃত কটু শব্দের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও সমালোচনা আগের মতোই অটল থাকবে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।