এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এক নারী শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই বহিষ্কার আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।বহিষ্কৃত আকবর আলী রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং নারী শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করল।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নারী শিক্ষিকার সঙ্গে অসদাচরণ এবং সহিংস পরিবেশ তৈরির বিষয়টি দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিএনপির নৈতিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে দলের কোনো নেতাকর্মী যদি এ ধরনের কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসামাজিক কাজে জড়িত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএনপি নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের মাধ্যমে। প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্র জানায় যে, ওই সময় অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাণ্ডব চালায় এবং এতে কলেজের অধ্যক্ষসহ একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন। বিশেষ করে একজন নারী শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন স্থানীয় এই নেতা।
সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপির এই তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে আহত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবিও জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন