রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেলের সংকট সরবরাহের জন্য নয়, তৈরি করা: মির্জা ফখরুল

রবিউল এহ্সান রিপন

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

তেলের সংকট সরবরাহের জন্য নয়, তৈরি করা: মির্জা ফখরুল

ছবি-দিনাজপুর টিভি

জ্বালানি তেলের বর্তমান অস্থিরতা কেবল সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে অনৈতিক কালোবাজারির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। 

শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌর মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।ঠাকুরগাঁও জেলা সফরের দ্বিতীয় দিনে মন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করেন। 

এ সময় উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যার আঁচ বাংলাদেশেও লেগেছে। তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল নিয়ে কালোবাজারি শুরু করেছে। 

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তেল বিক্রি করে কেউ যেন অনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে একটি বিশেষ শ্রেণি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করেছি এবং অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। সেই ত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে আমাদের একটি শান্তিময়, উন্নত ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের পথে হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও উন্নয়ন বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৬২৮টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন এবং ২০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারকে টিন ও নগদ অর্থ প্রদানসহ উন্নয়নের জন্য ৯০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডি উন্নয়নের জন্য ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার বিশাল বরাদ্দপত্র এ সময় হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বেগবান করতে এই বরাদ্দ বড় ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে আবারও সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বদা সজাগ রয়েছে।