সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
গণতন্ত্র রক্ষা করাটাই বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সবচেয়ে বড় জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে, তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট নগর ভবনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা সভায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং ছাত্র-জনতার চরম আত্মদানের মধ্য দিয়েই একটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই নির্বাচিত সরকার এখন সর্বশক্তি দিয়ে দেশকে অতীতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরায় জাগিয়ে তোলার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গণতন্ত্রকামী মানুষের লড়াইকে পৌরাণিক ফিনিক্স পাখির সাথে তুলনা করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েও ছাই থেকে পুনর্জন্ম নেওয়া ফিনিক্স পাখির মতো নতুন উদ্যমে জেগে ওঠে। তবে শুধু অধিকার ফিরে পাওয়াই শেষ কথা নয়; সেই অধিকারকে সুরক্ষিত রাখাই এখন মূল পরীক্ষা। তিনি সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদকে যেকোনো মূল্যে সচল ও কার্যকর রাখতে হবে। শাসনব্যবস্থায় নানামুখী মতপার্থক্য কিংবা আদর্শিক দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক, তবে সেসব বিরোধ রাজপথে সহিংসতায় না জড়িয়ে গঠনমূলক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।
ভবিষ্যতের লড়াইকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও টেকসই অগ্রযাত্রার সংগ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেন, অতীতের লড়াই ছিল ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের, আর আগামী দিনের সংগ্রাম হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সত্যিকার অর্থেই নিরাপদ ও মানবিক বাসযোগ্য রাষ্ট্র নির্মাণ করা। অতীতে দেশের জনগণ বারবার গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েও নানা চক্রান্তের কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এবার বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ যেন কোনো অবহেলা বা রাজনৈতিক ভুলে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন