রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতের সমাবেশ চলছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতের সমাবেশ চলছে

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের সমাবেশ

গণভোটের মাধ্যমে অর্জিত গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‍‍`জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশ‍‍` শীর্ষক এই কর্মসূচিতে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং রাজপথে লড়াই করা আহত যোদ্ধারা অংশ নিয়েছেন। 

সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে উদ্যানে এসে জড়ো হতে থাকেন।

সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্যে জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে আত্মত্যাগ করেছে, সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কোনো প্রকার দাড়ি, কমা কিংবা সেমিকোলন পরিবর্তন ছাড়াই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তিনি। 

কামরুল হাসান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, যদি এই সনদ বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ আবারও রাজপথে নামবে এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদ ঘেরাও করার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এ ছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। 

সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলদের পাশাপাশি ডাকসু, জাকসু ও রাকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতারা এই জাতীয় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখছেন। সারা দেশ থেকে আসা জুলাই আন্দোলনের আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী যোদ্ধারা মঞ্চের সামনে বিশেষ আসনে বসে এই দাবির প্রতি একাত্মতা জানান।

বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লব ছিল এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই। সেই লড়াইয়ের শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। জামায়াতের এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের হারানো স্বজনদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন। সমাবেশকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।