শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাকাতকে হেয় করে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্য: শিবির ও খতমে নবুওয়তের প্রতিবাদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

জাকাতকে হেয় করে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্য: শিবির ও খতমে নবুওয়তের প্রতিবাদ

নিলুফার মনির বক্তব্যের প্রতিবাদ।

জাকাতের মতো ইসলামের মৌলিক ও ফরজ ইবাদতকে হেয় করে বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনির দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সাথে এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। শনিবার (২ মে) পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতৃবৃন্দ এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবাগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি জাকাতকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। 

তিনি সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূলের কথা না বলে উল্টো একে জাকাতের চেয়ে উত্তম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতের শামিল।বিবৃতিতে শিবির নেতারা উল্লেখ করেন, জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি এবং এটি সামাজিক বৈষম্য দূর করার একটি ঐশ্বরিক ব্যবস্থা। 

অন্যদিকে চাঁদাবাজি একটি জঘন্য অপরাধ ও জুলুম। ইসলামের পবিত্র বিধানকে এমন একটি অপরাধের সাথে তুলনা করা চরম মূর্খতা ও ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছু নয় বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে নিলুফার চৌধুরী মনিকে তাঁর এই বক্তব্য অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এই বক্তব্যের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, জাকাত ইসলামের একটি ফরজ ইবাদত যা পবিত্র কুরআনের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রবর্তিত। পক্ষান্তরে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে হারাম ও জুলুম। এ ধরনের অপরাধের সাথে জাকাতের তুলনা করা শুধু ধর্মীয় অবমাননাই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।

মাওলানা রাব্বানী অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসম্মুখে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সতর্ক করেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও বিবৃতিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।