রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জামায়াতের নিবন্ধন ফেরতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১২:০২ পিএম

জামায়াতের নিবন্ধন ফেরতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট

জামায়াতের পূর্ণাঙ্গ রায়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অধিকার পুনরুদ্ধারের পথে এক চূড়ান্ত আইনি ধাপ সম্পন্ন হলো। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট দলটির নিবন্ধন ফেরতের ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করেছে। এর ফলে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা আইনি জটিলতা ও লড়াইয়ের অবসান ঘটল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সালে হাইকোর্ট এক রায়ের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধন বাতিল ঘোষণা করেছিল।

যা সেই সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই বিতর্কিত রায়টি গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১ জুন বাতিল করে দেয় আপিল বিভাগ। আজ সেই ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি জনসমক্ষে আসার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথটি আইনিভাবে সুসংহত হলো।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের একটি শক্তিশালী বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায়টি প্রদান করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. রেজাউল হক। 

পূর্ণাঙ্গ রায়ে মূলত ২০১৩ সালের হাইকোর্টের রায়ের আইনি ত্রুটিগুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং জামায়াতের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে ২০০৯ সালে একটি রিট আবেদনের মাধ্যমে জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট দলটির নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছিল। তখন থেকেই জামায়াত দলীয়ভাবে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছিল না।আসলে এই রায়ের প্রভাব বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে যাচ্ছে। 

এরই মধ্যে সম্পন্ন হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে যা এই আইনি বিজয়েরই একটি প্রতিফলন। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপকে দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার একটি বড় নিদর্শন হিসেবেও দেখছেন অনেকে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জামায়াতের আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এটি আইনের শাসনের জয়। এখন থেকে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না।