রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সীমান্তে হত্যা করে বন্ধুত্ব সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

সীমান্তে হত্যা করে বন্ধুত্ব সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এবং বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করে কারও সাথে বন্ধুত্ব করা সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম।

বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে আবারও নতুন করে হত্যাকাণ্ড ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের জনগণকে হত্যা করে কেউ যদি বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়, তবে সেই বন্ধুত্ব অর্থহীন। তিনি উল্লেখ করেন, বন্ধুত্বের পরিচয় কখনও কাঁটাতারের বেড়া হতে পারে না। এই বেড়া সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণই একদিন উপড়ে ফেলবে এবং বাংলাদেশের মানুষের সাথে অকৃত্রিম সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। তবে সরকার যদি এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। একই সাথে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বিষয়েও সরকারকে আরও সজাগ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ওই সময় শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি বলেই ২০২৪ সালে আরেকটি বড় গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগেও অনেকে গণহত্যার নীল নকশা তৈরি করেছিল।

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, আগের সময়ে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। শাপলা চত্বরের আন্দোলনকে ‍‍`তাণ্ডব‍‍` হিসেবে চিহ্নিত করে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে সকল গণহত্যার সঠিক বিচারের মাধ্যমে দায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করার।অনুষ্ঠানে এনসিপি ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।