রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিএনপি-জামায়াতের দূরত্বে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ: মঞ্জু

আজাদুল ইসলাম আজাদ

মে ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

বিএনপি-জামায়াতের দূরত্বে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ: মঞ্জু

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার রাজনৈতিক দূরত্ব যদি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তার ফলে পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।শুক্রবার (১৫ মে) বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মহানগর এবি পার্টির সংগঠক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।মজিবুর রহমান মঞ্জু তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও পরবর্তীতে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়। 

সেই সময়কার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়। তবে ২০০১ সালে রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝে দল দুটি আবারও জোটবদ্ধ হয়েছিল।

তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উভয় দল আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে। এই দূরত্ব যদি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সুবিধা দেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘাতমুখী পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবণতা এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে। একইসাথে পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের পুরনো চর্চা ফিরে আসার শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি স্বাধীন বিচার বিভাগ, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের ধীরগতির সমালোচনা করেন।

মহানগর সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।