রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সংগীত-নৃত্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাতিলের দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

সংগীত-নৃত্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাতিলের দাবি

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারু-কারুকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অনতিবিলম্বে কোমলমতি শিশুদের ওপর থেকে এই বিশেষ সাংস্কৃতিক ধারা চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানান।বিবৃতিতে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন যে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা জনগণের মৌলিক প্রত্যাশার পরিপন্থী। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কোমলমতি শিশুদের মাঝে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে আদর্শ সুনাগরিক গড়ে তোলা। কিন্তু সেই চিরন্তন লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে নতুন কোনো বিতর্কিত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ক্ষতিকর। তিনি বর্তমান শিক্ষা কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের দাবি তোলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো তীব্র শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত চরম দুর্বলতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের নানামুখী মৌলিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। এসব অতি জরুরি ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানের স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নতুন বিতর্কের জন্ম দেওয়া জাতির প্রকৃত শিক্ষাগত চাহিদাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার শামিল। কোমলমতি শিশুদের চারিত্রিক ও মানবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

ভবিষ্যতে সমাজ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, উগ্রবাদ, চাঁদাবাজি এবং সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে নৈতিকতাভিত্তিক সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই। এই ন্যায়ভিত্তিক ও সুশাসিত রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য তিনি অভিভাবক সমাজ ও দেশের সচেতন নাগরিকদের সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।