জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের ভবিষ্যৎ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জোটে থেকে রাজনৈতিক লাভ কতটুকু হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সাংগঠনিক বিস্তার কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দলের ভেতর চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।একই সঙ্গে কওমি ধারার ইসলামপন্থী কয়েকটি দলের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে দলটি।
এনসিপির নীতিনির্ধারকদের মূল লক্ষ্য কেবল কোনো জোটের অংশ হয়ে থাকা নয়।জাতীয় রাজনীতিতে স্বাধীন ও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা। তাদের ধারণা, একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।এর আগে ইসলামপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপি যুক্ত হলে জোটের পরিধি বাড়ে।
কিন্তু আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের জেরে নির্বাচন শুরুর আগেই একটি শরিক দল সরে যায়। এরপর নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব, কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।ইতিমধ্যে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামী দলের প্রতিনিধিদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বিচার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জুলাই মাসের সাংগঠনিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এনসিপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করেছে এনসিপি। ইতোমধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।
এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিষয়টি দলের ভেতরে আলোচনাধীন রয়েছে। সিটি নির্বাচনে সম্ভাব্য জোটগত সমঝোতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।অন্যদিকে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কয়েকটি ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ জানান, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও তারা নতুন উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের ভেতরে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাস্তবতা জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন