অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ০৯:২৪ এএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। দলটি তাদের পছন্দের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ পেতে অনড়, অন্যদিকে ইসি আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলে তা দিতে নারাজ। পছন্দের প্রতীক না পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এমনকি ইসির নিবন্ধন প্রত্যাখ্যান করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনসিপি, যা রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এনসিপি বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের সমর্থকরা শাপলা ফুল হাতে নিয়ে অংশ নিয়েছিল, তাই এই প্রতীকের সঙ্গে তাদের একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছে, জাতীয় প্রতীকের অংশ হয়েও যদি ‘ধানের শীষ’ বা ‘তারা’ অন্য দলের প্রতীক হতে পারে, তাহলে ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ দিতেও কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন তাদের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, শাপলা বাংলাদেশের মূল জাতীয় প্রতীক এবং সংবিধানের ৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এর অননুমোদিত ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বহু সরকারি লোগোতে এই প্রতীক ব্যবহৃত হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলকে এটি বরাদ্দ দিলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। ইসি আরও জানায়, এই একই যুক্তিতে এর আগে নাগরিক ঐক্যকেও শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন চট্টগ্রামে আবারও স্পষ্ট করে বলেন, “সংসদ নির্বাচনের প্রতীকের তালিকায় শাপলা প্রতীক নেই।”সিইসির এই বক্তব্যের পর এনসিপি নেতারা আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজবাহ কামাল বলেন, “শাপলা প্রতীক না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।
আমরা এই প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করব, ইনশাআল্লাহ।” দলের আরেক নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ইসি যদি স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে, তবে এই কমিশনের প্রতি তাদের অনাস্থা থাকবে।সব মিলিয়ে, ‘শাপলা’ প্রতীক নিয়ে এই দ্বন্দ্ব সহসা থামছে না। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে এনসিপিকে হয়তো আদালতের শরণাপন্ন হতে হতে পারে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন