রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন : শামসুজ্জামান দুদু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৬:৫৫ পিএম

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন : শামসুজ্জামান দুদু

ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গণতন্ত্রকে একটি অটুট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সেই একই ঐক্য, গভীর সচেতনতা এবং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিকে আবারও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি মন্তব্য করেন, স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আসল সংগ্রাম শুরু হয়েছে, যা আগের সংগ্রামের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বুধবার রাজধানীর পল্টনের জামান টাওয়ারে ন্যাশনাল লেবার পার্টির (এনএলপি) কার্যালয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শামসুজ্জামান দুদু তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে নেতাকর্মীদের আত্মতুষ্টিতে না ভোগার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বৈরতন্ত্রের পতন হয়েছে।

কিন্তু সম্মিলিত উদ্যোগেই আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে সব কিছুই শেষ হয়ে গেছে— অর্থাৎ স্বৈরতন্ত্রও শেষ হয়ে গেছে এভাবে ভাবা ঠিক হবে না।’ তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, বিএনপি মনে করে স্বৈরশাসকের পতন হলেও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে কাঠামো গত বছরগুলোতে তৈরি হয়েছে, তা এখনো বিদ্যমান এবং সেই কাঠামো ভেঙে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজের দলকে যেমন ধ্বংস করেছে, তেমনিভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, নিজেকেও ধ্বংস করেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার শাসনকালে ‘নীতি নৈতিকতা আদর্শ সবকিছু ধ্বংস করেছেন।’ দুদু আরও বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এই সরকার ‘নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে।’

তিনি মূলত এই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে কঠিন কাজ, সেদিকেই ইঙ্গিত করেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কেবল একজন ব্যক্তির পতনই যথেষ্ট নয়, তার রেখে যাওয়া অনৈতিকতা, বিচারহীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসাবশেষ পুনর্গঠন করাই হবে প্রকৃত বিজয়।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা তার বক্তব্যে কেবল অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ নয়, বরং নানামুখী বাহ্যিক ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি একটি ‘পার্শ্ববর্তী দেশের’ ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যে পরিষ্কার যে তিনি ভারতের প্রতিই ইঙ্গিত করছিলেন।

দুদু বলেন, ‘আমাদের একটা পার্শ্ববর্তী দেশ আছে, তারা গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দিয়েছে, লুটেরাকে আশ্রয় দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তারাও কিন্তু বসে নাই।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, যে বিদেশি শক্তি বিগত স্বৈরাচারী সরকারকে সমর্থন ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, তারা এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে পারে।

এই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র পথ হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু জাতীয় ঐক্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তার বক্তব্যের উপসংহার টেনে বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা যেমন স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছি ঠিক তেমনি ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তির কাছে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকতে পারে না, যা জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

এখন সেই ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে একটি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন, সার্বভৌম এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা কোনো বাহ্যিক শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হবে না বা কোনো অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার দ্বারা কলুষিত হতে পারবে না। এই প্রক্রিয়ায় ন্যাশনাল লেবার পার্টিসহ সকল গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।