রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্বৈরাচার পতনের পর মহিলা জামায়াতের তৎপরতা জোরদার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৯:৫১ এএম

স্বৈরাচার পতনের পর মহিলা জামায়াতের তৎপরতা জোরদার

ছবি - সংগৃহীত

জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ তাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করেছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে পনেরো বছর পর্দানশীন নারীদের জন্য বৈঠক করা প্রায় অঘোষিত অপরাধ ছিল বলে মনে করেন দলটির নেতারা। সে সময় ইসলামী বইপত্র নিয়ে কোনো ধরনের ধর্মীয় আলোচনা বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের খবর পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘জঙ্গি সম্পৃক্ততা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনত।

কোরআন-হাদিসের আলোচনা থেকেও নারী কর্মীদের, এমনকি গর্ভবতী নারী ও ছোট শিশুসহ মায়েদেরও গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ নারীরা সাংগঠনিক কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।কিন্তু স্বৈরাচার পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসায় জামায়াতের মহিলা বিভাগ তাদের কাজের গতি ও পরিধি উভয়ই বাড়িয়েছে।

তারা এখন শুধু প্রথাগত সাংগঠনিক কাজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মহিলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। জামায়াতের নেতৃত্বে বর্তমানে প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

দলীয় গঠনতন্ত্র ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহিলা জামায়াত স্বতন্ত্র একটি শাখা হিসেবে মূলত মহিলাদের মাঝেই দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের কাজের গতি বহুগুণে বেড়েছে। সম্প্রতি তাদের প্রকাশ্য কার্যক্রমেও নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে নারীবিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবে ইসলামবিরোধী বিষয় থাকার প্রতিবাদে মহিলা জামায়াত ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গত ২১ জুলাই জামায়াত আমিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের সময় দলের শীর্ষ পুরুষ নেতাদের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো মহিলা নেত্রীদেরও উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও তারা আলাদা বা যৌথভাবে সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জামায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠকেও জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, বিগত বছরগুলোতে জেল-জুলুমের শিকার হয়ে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালানো না গেলেও, স্বৈরাচারমুক্ত দেশে এখন সেই সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা তা যথাযথভাবে কাজে লাগাচ্ছেন।