রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তৃণমূলের মতামত নিয়ে নির্বাচনি কৌশল ঠিক করা হবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম

তৃণমূলের মতামত নিয়ে নির্বাচনি কৌশল ঠিক করা হবে

ছবি - সংগৃহীত

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল চূড়ান্ত করতে তৃণমূল নেতাদের মতামত নিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে দলটির অষ্টম সাধারণ পরিষদ অধিবেশন ও নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সারাদেশ থেকে আসা তৃণমূল নেতারা নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

দলটি কি আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে, অন্যান্য ইসলামী দলের সঙ্গে আসনভিত্তিক সমঝোতা করবে, নাকি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে নির্বাচনে যাবে—এই তিনটি বিকল্প নিয়েই মূলত আলোচনা হয়।দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, তারা তৃণমূলের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। তবে কোন প্রক্রিয়ায় দলটি নির্বাচনে অংশ নেবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ভিন্ন মত এসেছে।

নির্বাহী পরিষদ এখন এসব মতামত বিশ্লেষণ করে এবং আন্দোলনরত অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তবে এই সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় লাগবে। সকালের অধিবেশনে সারাদেশ থেকে প্রায় দুই হাজার তৃণমূল নেতা অংশ নেন। পরে বিকেলে একই স্থানে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।উভয় অধিবেশনেই সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি তিনটি প্রক্রিয়ারই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে কাউকেই চূড়ান্ত বন্ধু বা শত্রু মনে করা যায় না, বরং বাস্তবতার নিরিখে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। মতামতের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্তই আসুক, তা সবাইকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাওলানা মামুনুল হক সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী না হলেও আগামী পাঁচ বছর আপদে-বিপদে সর্বশক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের পাশে থাকতে হবে।

এদিকে, শুরা অধিবেশনে সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনঃস্থাপন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের দাবি, কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং ইসকনসহ সকল হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন মোকাবেলার আহ্বানসহ মোট নয়টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। অধিবেশনে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা আলী উসমান, মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।