অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০২:৩৫ পিএম
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের লক্ষ্যে ১৫ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে দলটির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া।
মূলত বিসিএস পরীক্ষা ও নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং পরীক্ষার্থীবান্ধব করার লক্ষ্যেই এই প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।এনসিপির দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে নন-ক্যাডার বিধিমালা সংশোধন সংক্রান্ত দাবিটি। তারা অবিলম্বে ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার বিধি সংশোধন করে চলমান ৪৩তম বিসিএস থেকেই তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পিএসসি থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠি পাঠানোর অনুরোধ করেছে।
একইসাথে, ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক অধিযাচিত পদগুলোতে দ্রুততম সময়ে সুপারিশ কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানানো হয়। ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে অধিযাচিত পদের সংখ্যা ৮৭০টি বৃদ্ধিসহ চলতি সপ্তাহেই সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ এবং এ বছরেই গেজেট প্রকাশের দাবিও তুলেছে দলটি। তারা চলমান ৪৩তম থেকে ৪৭তম সকল বিসিএস থেকেই সর্বোচ্চ সংখ্যক নন-ক্যাডার পদে সুপারিশের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায়।
অন্যান্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪৫তম বিসিএস ভাইভার নম্বরের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ, স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশ করা, ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের চূড়ান্ত নম্বরপত্র দেখার সুযোগ তৈরি, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং প্রতিটি বিসিএস এক ক্যালেন্ডার বছরের মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া। এছাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিশেষ বিসিএসগুলোতে প্যানেল সিস্টেম রাখা, ভাইভা বোর্ডের নম্বর প্রদানে তারতম্য কমাতে সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরি নির্ধারণ,
প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে যৌক্তিক সময়সীমা নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে ক্রস-চেক করে একই বা নিম্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তি বন্ধ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, পিএসসির অধীনে হওয়া বিভিন্ন গ্রেডের পরীক্ষাগুলোকে সমন্বিত (ক্লাস্টার) পদ্ধতিতে নেওয়ার সুপারিশ করেছে এনসিপি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন