নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৫:২৮ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) পুনরায় সংশোধন করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। দলটি এই পদক্ষেপকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) 'অন্যায়-অযৌক্তিক আবদারের কাছে নতিস্বীকার' হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মানবে না।শনিবার (০১ নভেম্বর) দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি ভিডিও বার্তায় দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এই হুঁশিয়ারি দেন।
ডা. তাহের বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ইতোমধ্যেই আরপিওতে 'বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করার' সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু এখন একটি দলের চাপে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যা অন্যায় আবদারের কাছে নতিস্বীকার করার শামিল। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে একটি অসম ও অবৈধ চুক্তি, একটি দলের চাপে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সর্বশেষ একই উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত– বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মার্কা ব্যবহারের বিষয়ে– আবার সেটা পুনর্বিবেচনার নামে একটি দলের প্রতি যে আনুগত্য প্রকাশ করেছে সরকার, নিঃসন্দেহে এতে এ সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্ত মানি না এবং এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিন্দা জানাচ্ছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং উপদেষ্টা পরিষদে ‘প্রতিটি দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে’ বলে যে দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জামায়াতে ইসলামী এবং দেশের জাতি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, ‘আমরা গত বৈঠকে গৃহীত সেই সিদ্ধান্তকে আবার পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ হবে।’
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত নেতা বিএনপির ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি নতুন করে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে এটি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। জনগণ ফেব্রুয়ারিতে যে একটি জাতীয় নির্বাচন চাইছে, নির্বাচনের ঠিক আগে হঠাৎ এরকম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা-উত্তাপ তৈরি করা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।’


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন