রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম ও ফজিলত

সালাতুত তাসবিহ নামাজ

ইসলামে নফল ইবাদতের মধ্যে সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় একটি নামাজ। হাদিস শরিফে এই নামাজ আদায়ের অশেষ সওয়াব ও গুরুত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচা হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এই নামাজের পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়ে বলেছিলেন যে যদি সম্ভব হয় তবে প্রতিদিন একবার এই নামাজ পড়বেন। 

প্রতিদিন সম্ভব না হলে প্রতি জুম্মায় একবার অথবা প্রতি মাসে বা বছরে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ আদায় করা উচিত। এমনকি জীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন।

সালাতুত তাসবিহ নামাজ মোট চার রাকাত এবং এটি আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এই নামাজের মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রতি রাকাতে একটি নির্দিষ্ট তাসবিহ মোট ৭৫ বার পাঠ করতে হয় যা চার রাকাত শেষে ৩০০ বার পূর্ণ হয়। তাসবিহটি হলো সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। 

নামাজের নিষিদ্ধ ওয়াক্ত ছাড়া দিন বা রাতের যেকোনো সময়ে এই নামাজ আদায় করা যায়। প্রতিটি রাকাতে সাতটি ভিন্ন ধাপে তাসবিহগুলো পাঠ করতে হয় যা নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য।নিয়ম অনুযায়ী প্রথম রাকাতে সানা পাঠের পর সুরা ফাতিহা শুরুর আগে ১৫ বার এই তাসবিহ পড়তে হয়। এরপর সুরা ও কিরাত পাঠ শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে ১০ বার তাসবিহটি পাঠ করা হয়। রুকুতে গিয়ে রুকুর নির্ধারিত তাসবিহ পাঠের পর আরও ১০ বার এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ১০ বার এটি পড়তে হয়। 

একইভাবে প্রথম সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ শেষ করে ১০ বার এবং দুই সিজদার মাঝে বসে আরও ১০ বার তাসবিহটি পাঠ করতে হয়। এরপর দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে একইভাবে ১০ বার তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে এক রাকাতে মোট ৭৫ বার তাসবিহ সম্পন্ন হয়।

এই নিয়মে চার রাকাত নামাজ শেষ করলে তাসবিহ পাঠের সংখ্যা ৩০০ বার পূর্ণ হবে। নামাজ চলাকালীন কোনো একটি ধাপে তাসবিহ পাঠ করতে ভুলে গেলে বা সংখ্যায় কম হলে পরবর্তী ধাপে তা আদায় করে সমন্বয় করে নেওয়া সম্ভব। পবিত্রতা ও একাগ্রতার সাথে এই নামাজ আদায় করলে বান্দার গুনাহ মাফ হয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমান সময়ে আত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এই বিশেষ নফল নামাজটি মুমিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।