এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
ইসলামি শরিয়তে নামাজ আদায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি দিক নির্ধারণ করা হয়েছে যা কিবলা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলমানরা পবিত্র কাবা শরিফের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করলেও ইসলামের শুরুর দিকে চিত্রটি ভিন্ন ছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া অতীতের সকল নবী ও রাসুলের কিবলা ছিল ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসা।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে এবং মদিনায় হিজরতের পরবর্তী প্রায় ১৬ মাস পর্যন্ত মুসলমানরা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে ফিরেই নামাজ আদায় করতেন।
মদিনায় অবস্থানের সময় কিবলা বায়তুল মোকাদ্দাস হওয়ার কারণে স্থানীয় ইহুদিরা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাত। তারা দাবি করত যে মুসলমানদের স্বতন্ত্র কোনো কিবলা নেই এবং তারা ইহুদিদেরই অনুসরণ করছে। এই পরিস্থিতি এবং মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা বিকাশের প্রয়োজনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মনে মনে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন।
ওহির মাধ্যমে মহান আল্লাহর অনুমোদনের অপেক্ষায় তিনি প্রায়ই ব্যাকুল চিত্তে আকাশের দিকে তাকাতেন।ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে এক বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে এই কিবলা পরিবর্তন হয়। নবী করিম (সা.) কয়েকজন সাহাবিসহ বনু সালামা এলাকায় বিশর ইবনে বারার (রা.) দাওয়াতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। জোহরের নামাজের সময় তিনি মসজিদে ইমামতি করছিলেন।
নামাজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি সময়ে জিবরাইল (আ.) আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি নিয়ে অবতীর্ণ হন। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ১৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ জানান যে নবীজির আকাশের দিকে বারবার তাকানো আল্লাহর দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং তাকে পছন্দের কিবলার দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।নামাজরত অবস্থায় এই ঐশী নির্দেশনা পাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাৎক্ষণিকভাবে বায়তুল মোকাদ্দাসের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে কাবামুখী হন। পেছনে থাকা সাহাবীরাও তাকে অনুসরণ করে কিবলা পরিবর্তন করেন এবং বাকি নামাজ শেষ করেন।
একই নামাজে দুই কিবলার দিকে মুখ করার কারণে এই মসজিদটি পরবর্তীতে মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।মদিনা শহরের পশ্চিম প্রান্তে খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়কে অবস্থিত এই মসজিদটি আজও সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিবলাতাইন শব্দের অর্থ হলো দ্বিবচন বা দুই কিবলা।
মূলত বনু সালামা অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এটি শুরুতে মসজিদে বনু সালামা নামে পরিচিত ছিল। কিবলা পরিবর্তনের এই ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল একটি দিক পরিবর্তন নয় বরং এটি ছিল স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই কিয়ামত পর্যন্ত পবিত্র কাবা মুসলমানদের জন্য ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারিত হয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন