এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ঈদুল আজহা সামনে রেখে মুসলিম সমাজে ত্যাগের বিশেষ আবহ তৈরি হয়েছে। এই ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সঠিক কোরবানির পশু নির্বাচন করা। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানি কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে পশুর গুণগত মান ও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হলো নির্দিষ্ট বয়সসীমা। গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে পশুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে এই সীমা অন্তত এক বছর।
তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ছয় মাস বয়সী ভেড়া যদি দেখতে এক বছরের মতো সবল মনে হয়, তবে তা কোরবানিযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।শারীরিক সুস্থতা যাচাইয়ের বিষয়ে বলা হয়েছে, পশুটি অবশ্যই রোগমুক্ত ও সবল হতে হবে। কোনো ধরনের রোগাক্রান্ত বা অস্বাভাবিক আচরণ করা পশু নির্বাচন করা ঠিক নয়।
দৃশ্যমান শারীরিক ত্রুটি যেমন অন্ধত্ব, এক চোখে সমস্যা, পঙ্গুত্ব কিংবা কান ও লেজের বড় অংশ কাটা থাকলে সেই পশু কোরবানি করা যাবে না। ইসলামি বিধিবিধান অনুযায়ী কোরবানির পশুতে সৌন্দর্য ও পরিপূর্ণতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।হাটে পশু কেনা নিয়ে এক সচেতন বাবার অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পশুর প্রতিটি খুঁটিনাটি যাচাই করছিলেন। কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেরা জিনিসটি উৎসর্গ করাই কোরবানির মূল শিক্ষা।
নিজ বাড়িতে লালন-পালন করা বা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বড় হওয়া মোটা-তাজা পশু কোরবানির জন্য বেশি পছন্দনীয়।পশুটি ভালোভাবে লালিত-পালিত কি না সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিকতা, সততা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হওয়াই কোরবানির সৌন্দর্য। ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে মেনে সচেতনতার সঙ্গে পশু নির্বাচন করলে তা আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন