মে ২১, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটে বা খামারে লাইভ ওয়েট বা ওজন মেপে পশু কেনার একটি নতুন ও আধুনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থানরত ক্রেতা এবং দেশের বড় শহরগুলোতে গরুর সঠিক ও যৌক্তিক দাম নির্ধারণের জন্য এই পদ্ধতি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে ওজন মেপে কোরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পশু কেনা ইসলামি শরিয়তসম্মত কি না, তা নিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন জাগে।
আধুনিক এই ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতি ও কোরবানির মূল উদ্দেশ্য নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।তার সুস্পষ্ট মতামত অনুযায়ী, বর্তমানে ওজন মেপে পশুর দাম নির্ধারণ করার যে রীতি প্রচলিত হয়েছে, শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে কোনো ধরনের বাধা বা নিষেধাজ্ঞা নেই।
ক্রেতা যাতে হাটে গিয়ে ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পারেন এবং বিক্রেতার অতিরিক্ত দাম হাঁকানোর কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য ওয়েট স্কেল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
ইসলাম কখনো তার অনুসারীদের কাউকে ইচ্ছাকৃত লোকসান দিয়ে কোরবানির পশু কিনতে বাধ্য করে না বলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই কেনাকাটা যদি নিছক বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশে রূপ নেয়, তবে তা কোরবানির মূল আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।কোরবানিতে অনেকে বেশি মাংস পাওয়ার আশায় কম দামে পশু খোঁজেন, যার বৈধতা সম্পূর্ণভাবে ক্রেতার সৎ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, ন্যায্যমূল্যে বড় পশু কেনার চেষ্টা করা জায়েজ, কারণ এতে নিজের সাশ্রয়ের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষদেরও বেশি মাংস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু যদি কারও নিয়ত হয় শুধু বেশি মাংস খাওয়া বা সমাজে নিজের আর্থিক মর্যাদা জাহির করা, তবে কোরবানির অন্তর্নিহিত মাহাত্ম্য একেবারেই ক্ষুণ্ন হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, কোরবানির মূল শিক্ষা কেবল মাংস বিতরণের উৎসব নয়; বরং ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে মহান আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের ইচ্ছাকে কোরবানি করা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন