রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আল্লাহর জমিনে নিকৃষ্টতম কাজ হিল্লা বিয়ে: শায়খ আহমাদুল্লাহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১২, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

আল্লাহর জমিনে নিকৃষ্টতম কাজ হিল্লা বিয়ে: শায়খ আহমাদুল্লাহ

আমাদের সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়েকে আল্লাহর জমিনের অন্যতম নিকৃষ্ট ও নোংরা কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। পবিত্র ইসলামের অমোঘ বিধানকে অপব্যবহার ও ফাঁকি দেওয়ার জন্য এই ধরনের শর্টকাট রাস্তা খোঁজা সম্পূর্ণ অবৈধ ও গুনাহের কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন। একটি ওয়াজ মাহফিলে সাধারণ দর্শকদের করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি হিল্লা বিয়ে বা তথাকথিত চুক্তির বিয়ের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

হাদিসের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী এই পাতানো খেলার সাথে জড়িত সবার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়।শায়খ আহমাদুল্লাহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন যে, কোনো দম্পতির মধ্যে তিন তালাক হয়ে গেলে কিছু নামধারী হুজুর বা সমাজের মুরুব্বী ও মাতবরেরা মিলে একজন সাময়িক লোক ঠিক করে। তার সাথে ওই নির্দিষ্ট নারীর একটি নামমাত্র বা সাজানো বিয়ের চুক্তি করিয়ে দেওয়া হয়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লোক ভাড়া করে এনে এই ধরনের পাতানো বিয়ের পর তাকে দুই-একদিন পর তালাক দিতে বলা হয়, যেন প্রথম স্বামী তাকে আবার সহজে বিয়ে করতে পারে। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ধরনের নোংরা কুপ্রথাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন এবং যে ব্যক্তি হিল্লা বিয়ে করে এবং যার জন্য এটি করানো হয়, উভয়ের প্রতি আল্লাহর গজব নেমে আসে বলে সতর্ক করেছেন।কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে শরিয়তসম্মত উপায়ে তিনবার তালাক দেয়, তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইসলামি শরিয়তের সঠিক বিধান হলো, তিন তালাকের পর ওই নারী চাইলে অন্য কোনো পুরুষের সাথে স্বাভাবিক নিয়মে সম্পূর্ণ নতুন করে সংসার শুরু করতে পারেন। 

সেই নতুন স্বামী যদি কখনো স্বাভাবিক কারণে সংসার করতে না পেরে স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দেয় কিংবা মারা যায়, তবেই কেবল ইদ্দত পালন শেষে পূর্বের স্বামী তাকে নতুন করে মোহর দিয়ে বিয়ে করার বিকল্প সুযোগ পাবেন। এটিই মহান আল্লাহর একমাত্র নির্ধারিত পবিত্র নিয়ম এবং কোনো জোরপূর্বক চুক্তি এখানে ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের সাধারণ স্বামীদের রাগের মাথায় একসাথে তিন হাজার তালাক দেওয়ার অনৈসলামিক প্রবণতা পরিহার করার বিশেষ আহ্বান জানান। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হলে শরিয়তের নিয়ম মেনে প্রথমে একটি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় তালাক দেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। চূড়ান্ত বা তিন নম্বর তালাক দেওয়ার আগে একজন মানুষকে অন্তত দশবার চিন্তা করতে হবে যে, এই সিদ্ধান্তের পর সে আর কোনোদিন ওই স্ত্রীর সাথে ঘর করতে পারবে না।