রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সৃষ্টির রহস্য ও মানবজাতির সূচনা: আবু ত্বহা আদনানের বয়ান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ১২:১২ পিএম

সৃষ্টির রহস্য ও মানবজাতির সূচনা: আবু ত্বহা আদনানের বয়ান

সম্প্রতি আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান এক জীবন পরিবর্তনকারী লেকচারে সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে মানবজাতির পৃথিবীতে আগমনের বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই প্রথম ও শেষ, তিনি সকল বিষয়ে জ্ঞানী এবং কোনো কিছু সৃষ্টির আগে থেকেই তিনি ছিলেন।

তিনি সর্বপ্রথম আরশে আজিম ও কলম সৃষ্টি করেন এবং কলমকে কেয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে, বিশেষ করে রিজিক ও তাকদির, তা লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপর ছয় দিনে সাত আসমানসহ সমগ্র মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়। আল্লাহ নূর থেকে ফেরেশতা এবং আগুন থেকে জীন জাতি সৃষ্টি করেন।

জীন জাতিকে পৃথিবীতে পাঠানোর পর তারা ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করলে তাদের ধ্বংস করা হয়, তবে কিছু জীন পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্রে আশ্রয় নেয়। বক্তা জিনের আসর থেকে বাঁচতে সকাল-সন্ধ্যার জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরবর্তীতে, আল্লাহ ফেরেশতাদের পৃথিবীতে 'খলিফা' বা প্রতিনিধি পাঠানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

ফেরেশতারা জীন জাতির অভিজ্ঞতার আলোকে রক্তপাতের আশঙ্কার কথা বললেও আল্লাহ জানান যে তিনি যা জানেন, ফেরেশতারা তা জানে না। আল্লাহ নিজ হাতে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন এবং তাকে মহাবিশ্বের সমস্ত 'নাম' বা জ্ঞান শিক্ষা দেন, যা ফেরেশতা বা ইবলিসেরও ছিল না। আদম (আঃ) ফেরেশতাদের সামনে সেই জ্ঞানের প্রমাণ দিলে আল্লাহ সকল ফেরেশতাকে আদমের উদ্দেশ্যে সিজদা করার নির্দেশ দেন। সবাই সিজদা করলেও ইবলিস অহংকারবশত অস্বীকৃতি জানায়, যুক্তি দেখায় যে সে আগুনের তৈরি আর আদম মাটির তৈরি। এই অহংকারের কারণেই ইবলিস বিতাড়িত হয়, যদিও সে আল্লাহকে 'রব' হিসেবে স্বীকার করতো, যা প্রমাণ করে সে আস্তিক ছিল। বিতাড়িত হওয়ার সময় ইবলিস কেয়ামত পর্যন্ত অবকাশ চায় এবং আদম সন্তানকে চারদিক থেকে আক্রমণ করে পথভ্রষ্ট করার ও অকৃতজ্ঞ বানানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। এরপর আদম (আঃ)-এর পাঁজর থেকে হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং রুহের জগতে সকল আদম সন্তানের কাছ থেকে 'আলাসতু বি রাব্বিকুম' বা 'আমি কি তোমাদের রব নই' এই মর্মে অঙ্গীকার নেওয়া হয়। আদম (আঃ) তার সন্তানদের মধ্যে দাউদ (আঃ)-কে দেখে মুগ্ধ হন এবং নিজের ১০০০ বছরের হায়াত থেকে ৪০ বছর তাকে দান করেন। আদম ও হাওয়া (আঃ)-কে জান্নাতে স্থান দেওয়া হয় এবং একটি নির্দিষ্ট গাছের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু ইবলিস তাদের 'চিরস্থায়ী জীবন' ও 'অক্ষয় রাজত্বের' প্রলোভন দেখিয়ে সেই গাছের ফল খাওয়াতে প্রলুব্ধ করে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জান্নাতি পোশাক খুলে যায় এবং তারা নগ্ন হয়ে পড়েন। বক্তা এই ঘটনাকে বর্তমান যুগের 'নগ্নতার সংস্কৃতি' বা কাপড় খোলার এজেন্ডাকে শয়তানের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আদম ও হাওয়া (আঃ) লজ্জিত হয়ে গাছের পাতা দিয়ে নিজেদের আবৃত করেন এবং আল্লাহর শেখানো কালিমা 'রব্বানা জালামনা আনফুসানা' পাঠ করে তওবা করেন। আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেও জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেন, তবে ওয়াদা করেন যে যুগে যুগে হেদায়েত বা পথনির্দেশ পাঠানো হবে। যারা সেই হেদায়েত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না, আর যারা অস্বীকার করবে, তারা জাহান্নামী হবে। পৃথিবীতে আগমনের পর হাবিল ও কাবিলের ঘটনা ঘটে, যেখানে হিংসার বশবর্তী হয়ে কাবিল হাবিলকে হত্যা করে, যা পৃথিবীতে প্রথম খুন এবং 'গুনাহে জারিয়া' বা চলমান পাপের সূচনা করে। বক্তা উল্লেখ করেন যে, সকল জ্ঞান ও সভ্যতার মূল এসেছে নবীদের মাধ্যমে এবং মানবজাতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর সর্বশেষ হেদায়েত কোরআন ও সুন্নাহ মেনে চলে পুনরায় সেই জান্নাতে ফিরে যাওয়া, যেখান থেকে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল