মার্চ ৯, ২০২৬, ১০:০৬ এএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতে অনিশ্চয়তায় ভরা এক সফর শুরু করেছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। প্রথম চার ম্যাচে দলের মূল একাদশে তার কোনো জায়গা হয়নি, কাটাতে হয়েছে বেঞ্চে বসে। তবে রিংকু সিংয়ের ব্যক্তিগত কারণে দল ত্যাগের ফলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় ৩১ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের। সেই সুযোগকে এমনভাবে কাজে লাগালেন যে শেষ পর্যন্ত তিনি ভারতকে শিরোপা জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রতিভা বলা হয়। তার এই ঝড়ো ইনিংসে ভর করেই ভারত একটি বড় পুঁজি পায় যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই স্যামসন ছিলেন অবিশ্বাস্যভাবে ধারাবাহিক। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে কক্ষপথে ফেরান। এরপর সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ৪২ বলে ৮৯ রানের আরও একটি বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন।
টানা তিন ম্যাচে ৮০-এর বেশি রান করে তিনি অনন্য এক নজির গড়েন। বিশ্বকাপের পুরো আসরে মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট এবং ৮০.২৫ গড়ে মোট ৩২১ রান সংগ্রহ করেন তিনি। এই অসামান্য নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তার হাতে ওঠে টুর্নামেন্ট সেরার মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ভারতের হয়ে বিরাট কোহলি ও জসপ্রিত বুমরাহ’র পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি এই অনন্য সম্মাননা অর্জন করলেন।স্যামসনের এই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে একাধিক নতুন রেকর্ড।
এই আসরে তিনি মোট ২৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কা মারার নতুন বিশ্বরেকর্ড। এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—উভয় ম্যাচেই অর্ধশতক করার বিরল কৃতিত্বও দেখিয়েছেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ডটি শুধুমাত্র শহীদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির দখলে ছিল। যে টুর্নামেন্টটি তার জন্য বেঞ্চে বসে শুরু হয়েছিল, সেটিরই সমাপ্তি ঘটল একজন বিশ্বজয়ের নায়ক হিসেবে। স্যামসনের এই রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তন দীর্ঘ সময় ক্রিকেট বিশ্বের স্মরণে থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন