এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বাংলাদেশের কর্পোরেট জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও সফল মুখ রুবাবা দৌলা। তবে গত বছরের নভেম্বরে যখন তাকে হঠাৎ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছিল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নাম ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
কীভাবে একজন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব হুট করে ক্রিকেটের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে চলে এলেন, সেই অজানা গল্পটি এবার সামনে নিয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
শনিবার (১১ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে আজাদ মজুমদার এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান যে বিসিবির গত নির্বাচনের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন বলে শুরুতে প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
তবে নির্বাচনের পরদিন গভীর রাতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তাকে ফোন করেন এবং একটি বিশেষ সংকটের কথা জানান। সরকার মনোনীত একজন পরিচালক পদত্যাগ করায় ওই পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। যেহেতু নির্বাচিত পরিচালকদের সবাই ছিলেন পুরুষ, তাই বোর্ড পরিচালনায় একজন নারীর অন্তর্ভুক্তি তখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।আজাদ মজুমদার তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে পরদিনই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
হাতে খুব অল্প সময় থাকায় কোনো উপযুক্ত নারী প্রার্থী খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। ওই মুহূর্তেই আকস্মিকভাবে তার মাথায় রুবাবা দৌলার নাম আসে এবং তিনি বিষয়টি ক্রীড়া উপদেষ্টাকে জানান। পরবর্তীতে বিসিবি সভাপতি ও অন্যান্য প্রভাবশালী পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনার পর রুবাবা দৌলার নাম প্রস্তাব করা হলে সবাই তাতে সম্মতি প্রদান করেন। তবে ওই সময় পর্যন্ত স্বয়ং রুবাবা দৌলার কোনো সরাসরি সম্মতি নেওয়া হয়নি।
নিয়োগের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে প্রথমে ক্রীড়াঙ্গন-সম্পর্কিত সার্চ কমিটির আহ্বায়ক জোবায়দুর রহমান রানা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে আজাদ মজুমদার নিজেও তার সাথে কথা বলে প্রস্তাবটি দেন। রুবাবা দৌলা বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য কিছুটা সময় চান এবং জানান যে তার তৎকালীন কর্মস্থল থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে পরদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় বিসিবির প্রথম সভায় ওই পরিচালক পদটি শূন্য রেখেই কার্যক্রম শুরু হয়।
এরই মধ্যে বিষয়টি গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুবাবা দৌলাকে নিয়ে ব্যাপক ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার বুলিং শুরু হয়। আজাদ মজুমদারের মতে, এমন পরিস্থিতিতে তিনি কিছুটা বিব্রত বোধ করলেও দমে যাননি। দ্বিতীয় সভার আগে তার কর্মস্থল থেকে চূড়ান্ত অনুমতি পাওয়ার পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করে।
সাইবার বুলিংয়ের মুখোমুখি হয়েও তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কাজ শুরু করেন। তবে বর্তমানে বিসিবিতে রুবাবা দৌলার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। রুবাবা দৌলার এই বিসিবি যাত্রা বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসনে পেশাদারিত্ব ও লিঙ্গ সমতা আনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন