এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত—এটি ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের এক অলিখিত ও সম্মানিত নিয়ম। ম্যাচ অফিসিয়ালদের যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের অংশ। তবে এবার আম্পায়ারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বড় ধরণের শাস্তির মুখে পড়েছেন নেপালের জাতীয় দলের ক্রিকেটার কারান কেসি।
আম্পায়ারকে আঘাত করলে শাস্তির ধরণ কেমন হতে পারে—এমন একটি প্রশ্ন করেই তিনি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (সিএএন) এর রোষানলে পড়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত নেপালের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ ‘পিএম কাপ’ (প্রধানমন্ত্রী কাপ)-কে কেন্দ্র করে। গত শুক্রবার টুর্নামেন্টটিতে মুখোমুখি হয়েছিল বাগমাতি ও মাধেশ। ওই ম্যাচে বাগমাতির অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটার সন্দীপ লামিচানের সঙ্গে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
লামিচানে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং মাঠে বেশ কিছুক্ষণ উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরবর্তীতে এই ঘটনার ছবিসহ একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ক্রিকেট পেজে শেয়ার করা হয়।সেই পোস্টের নিচে মন্তব্য করতে গিয়েই বিপত্তি ঘটান কারান কেসি। তিনি ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে কমেন্টে লেখেন, ‘কোনো ক্রিকেটার যদি ভুলবশত একজন আম্পায়ারকে মারে, তখন কয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে? এমনিই জিজ্ঞেস করছি।’ আপাতদৃষ্টিতে প্রশ্নটি সাধারণ মনে হলেও, মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এটিকে আম্পায়ারদের প্রতি চরম অবমাননা এবং সহিংসতার উসকানি হিসেবে দেখছে নেপালের ক্রিকেট বোর্ড।
এই মন্তব্যের জেরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল (সিএএন)। বোর্ডের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারান কেসিকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওই ম্যাচের শতভাগ ম্যাচ ফি জরিমানা হিসেবে তার কাছ থেকে কেটে নেওয়া হবে। সিএএন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি ক্রিকেটের স্পিরিট এবং আম্পায়ারদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
ক্রিকেট বিশ্বে মাঠের ভেতরে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কের ঘটনা নতুন নয়, তবে মাঠের বাইরের মন্তব্যের জন্য এমন কঠোর শাস্তি সচরাচর দেখা যায় না। কারান কেসির এই ঘটনাটি বর্তমান সময়ের ক্রিকেটারদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিষয়ে মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে পেশাদার ক্রিকেটারদের যে অনেক বেশি সংযমী হওয়া প্রয়োজন, এই শাস্তি সেটিই প্রমাণ করল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন