জুন ১১, ২০২৬, ১০:১৮ এএম
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আয়োজক তিন দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান ভিন্ন হলেও এর মূল সুর একটাই—ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বকে এক করা।
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে আজ রাত ১১টায় শুরু হবে প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো। এই ম্যাচের ৯০ মিনিট আগেই পর্দা উঠবে উদ্বোধনী আয়োজনের। মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী লোকজ পরিবেশনা ও আদিবাসী সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকবে সেখানে। অনুষ্ঠানে শাকিরা ও নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়সহ অনেক তারকা সংগীতশিল্পী পারফর্ম করবেন।
কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে আগামীকাল রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে কানাডা। কানাডার গৌরবের ইতিহাস ও শিল্পকলা ফুটিয়ে তোলা হবে এই আয়োজনে। অ্যালানিস মরিসেট, নোরা ফাতেহি এবং মাইকেল বুবলের মতো শিল্পীরা মঞ্চ মাতাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে শনিবার সকাল পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর সকাল ৭টায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে কেটি পেরি ও অ্যানিত্তার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের দেখা যাবে।
সবগুলো অনুষ্ঠানের প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন মার্কো বালিচ। অলিম্পিকের উদ্বোধনী আয়োজনের কারিগর হিসেবে পরিচিত তিনি। প্রতিটি শহরে অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব ও পরিবেশ ভিন্ন হলেও একটি অভিন্ন বার্তা দেওয়া হবে—ভেদাভেদ ভুলে মানুষ ফুটবলের টানে এক হতে পারে।
মেক্সিকো সিটিসহ তিনটি শহরেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্কুলের ছুটি ঘোষণা, সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনা ও ক্ষণগণনা—সব মিলিয়ে ফুটবল জ্বরে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। আয়োজক তিন দেশের আলাদা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা। সবশেষ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে, এখন শুধু মাঠে বল গড়ানোর অপেক্ষা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন