জুন ১১, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সফলতম দল ব্রাজিল দীর্ঘ ২৪ বছরের শিরোপার খরা কাটিয়ে `হেক্সা` তথা ষষ্ঠ বৈশ্বিক ট্রফি জয়ের মিশনে নামছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের গ্রুপ পর্বের সময়সূচি ও পরবর্তী রোডম্যাপ চূড়ান্ত হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে শেষ যেবার ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ হয়েছিল, সেবারও ব্রাজিল ২৪ বছরের দীর্ঘ খরা ঘুচিয়ে ট্রফি জিতেছিল। এবারও কি ইতিহাসের সেই একই রোমাঞ্চকর পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এই বৈশ্বিক আসরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপ `সি` তে অবস্থান করছে। এই গ্রুপে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তির তিন প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলবে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড। ব্রাজিলের জন্য ভৌগোলিক দিক থেকে একটি বড় সুবিধা হলো তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের শহরগুলোতে। এর ফলে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ছাড়াই মাঠে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স বিলিয়ে দেওয়ার একটি ভালো সুযোগ থাকবে।
সময়সূচি অনুযায়ী, ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ মরক্কো এবং ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ জুন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। দ্বিতীয় ম্যাচে সেলেসাওরা মুখোমুখি হবে হাইতির এবং এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুন ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ছয়টায়। গ্রুপের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে ২৫ জুন ভোর চারটায় মায়ামি স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে হলুদ-সবুজ জার্সিধারীরা।
এবারের আসরে মোট ৪৮টি দল ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে মাঠের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দল সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। এদের সঙ্গে ১২টি গ্রুপের মধ্যে পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থাকা সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলও নকআউট পর্বে পা রাখবে। গ্রুপ পর্বে দলগুলোর পারফরম্যান্স কেমন হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্ধারণ হবে ব্রাজিলের পরবর্তী কঠিন গতিপথ।
যদি ব্রাজিল নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের খেলতে হবে টুর্নামেন্টের ৭৬ নম্বর ম্যাচে। সে ক্ষেত্রে ৩০ জুন টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ `এফ` এর রানার্স-আপের মুখোমুখি হবে তারা। এই বাধা পার হতে পারলে আগামী ৬ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে ১২ জুলাই মায়ামি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড কিংবা মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সমীকরণ হলো, ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে তবে ১৬ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে মহাকাব্যিক সুপার ক্লাসিকো দেখার সুযোগ পেতে পারে ফুটবলবিশ্ব। যদি আর্জেন্টিনা বা পর্তুগাল তাদের নিজ নিজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটের বাধা পেরিয়ে আসে, তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিলের দেখা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সাথে। এরপর সব বাধা টপকাতে পারলে ২০ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলবে তারা।
ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পেরে রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে কোয়ালিফাই করে, তবে তাদের ফাইনাল যাত্রার পুরো রোডম্যাপ আমূল বদলে যাবে।এক্ষেত্রে তারা চলে যাবে ব্র্যাকেটের সম্পূর্ণ বিপরীত পাশে বা লেফট ব্র্যাকেটে। এর ফলে তাদের আমেরিকার পূর্ব উপকূল ছেড়ে পশ্চিম এবং মধ্য অঞ্চলের ভেন্যুগুলোতে বেশি ম্যাচ খেলতে হবে। শুরুতেই ১ জুলাই মেক্সিকোর গুয়াদালুপের এস্তাদিও বিবিভিএ মাঠে গ্রুপ এফ এর চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। পরবর্তীতে ৪ জুলাই হিউস্টনে রাউন্ড অব সিক্সটিন, ১০ জুলাই ফক্সবরো স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৫ জুলাই আরলিংটন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল খেলতে হবে।
আর যদি ব্রাজিল গ্রুপে তৃতীয় হয়ে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়, তবে তাদের নকআউট গতিপথ সুনির্দিষ্ট করা অত্যন্ত জটিল গাণিতিক বিন্যাসের ওপর নির্ভর করবে। তবে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে ১ বা ২ জুলাই ডালাস স্টেডিয়াম অথবা সোফাই স্টেডিয়ামে তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন