জুন ১৯, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করলেও এই হারের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের জন্য এক বড় ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। মূলত দুর্বল টিম সিলেকশন বা দল নির্বাচন এবং বোলিং লাইনাপের ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশকে মাঠ থেকে হারের স্বাদ নিয়ে ফিরতে হয়েছে। গত ম্যাচে ভালো পারফর্ম করার পরেও শেখ মেহেদীকে এই ম্যাচের একাদশে রাখা হয়নি যা দলের বোলিং শক্তিকে অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছিল।
তবে টিম ম্যানেজমেন্টের এমন সাহসী এবং ইচ্ছাকৃত পরিবর্তনকে ভবিষ্যতের নতুন খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন।অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরেও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।বিগত ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের প্রতিটি ম্যাচেই নির্দিষ্ট অভিজ্ঞ পঞ্চপাণ্ডবদের খেলানোর এক অলিখিত অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। দল সবসময় সেরা কম্বিনেশন নিয়ে জেতার জন্য মাঠে নামত যার ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা নতুন তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তব অভিজ্ঞতা বা এক্সপোজার দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবার অজিদের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে তরুণদের সুযোগ দিয়ে ম্যানেজমেন্ট মূলত কিছু রিয়েলিটি চেক বা বাস্তব পরিস্থিতি পরখ করার বড় সাহস দেখিয়েছে। তরুণ বোলার সাকলাইনকে এই ম্যাচে নতুন বলে বোলিং করানো হয়েছিল অথচ তিনি মূলত পাঁচ নম্বর বোলার হিসেবে পুরনো বলে বেশি কার্যকর। নতুন বলে ভালো করতে না পারায় তাঁর যে আন্তর্জাতিক মানের ঘাটতি রয়েছে তা তিনি এই ম্যাচ খেলার মাধ্যমেই শিখতে পেরেছেন।
দলের তরুণ তারকা তাওহিদ হৃদয়ের কাঁধে এই ম্যাচে অধিনায়কত্বের বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যা ভবিষ্যতের দলপতি তৈরির এক চমৎকার দূরদর্শী প্রয়াস। এই সিরিজে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দিয়ে হয়তো তরুণ বোলার রিপন মন্ডলকেও খেলানো যেত কারণ এই সিরিজটি দলের জন্য কোনো বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না। বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচ হাতছাড়া হলেও দলের ব্যাটারদের আগ্রাসী ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ বা খেলার ধরন দর্শকদের বেশ আশাবাদী করে তুলেছে।
ওপেনার তানজিদ হাসান মাঠের চারদিকে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত পিকআপ শট এবং দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ খেলে ইনিংসের শুরুটা দারুণ করেছিলেন। তবে প্রতিপক্ষের শর্ট লেন্থের দুটি বল ব্যাকফুটে খেলার পর হঠাৎ ফ্রন্ট ফুটের বলে বিভ্রান্ত হয়ে তিনি বোলারকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে সস্তায় বিদায় নেন।অন্য ওপেনার সাইফ হাসানের ব্যাটিংও টি-টোয়েন্টি মেটেরিয়াল বা এই সংস্করণের উপযোগী হিসেবে বেশ সাবলীল ও ইতিবাচক মনে হয়েছে।
অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও শেষ পর্যন্ত লড়াই করার চেষ্টা করেছেন এবং কাভারের ওপর দিয়ে একটি চমৎকার ড্রাইভ খেলে নিজের ব্যাটিংয়ের নতুন পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। চার নম্বর পজিশনে স্পিন ভালো খেলা তরুণ ব্যাটার ইমনকে খেলানোর সিদ্ধান্তটিও ছিল কৌশলগতভাবে একদম সঠিক ও ফলপ্রসূ। শামীম পাটোয়ারী বোলারদের স্লোয়ার বলের ফাঁদে পড়ে মাঠের লঙ্গেস্ট পার্ট বা সবচেয়ে বড় সীমানায় ছক্কা মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। ভারতের অভিষেক শর্মা বা নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্ররাও শুরুর দিকে এমন অখ্যাত বা কম গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে খেলেই আজকের বিশ্বসেরা ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি হয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন