শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৪০ বছরের অভিশাপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে স্বাগতিক মেক্সিকো

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

৪০ বছরের অভিশাপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে স্বাগতিক মেক্সিকো

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে দীর্ঘ ৪০ বছরের জয়খরা ও ব্যর্থতার অভিশাপ কাটিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শেষ ৩২ দলের ঐতিহাসিক লড়াইয়ে ইকুয়েডরকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬ বা নকআউটের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে তারা। নিজেদের চেনা মাঠ মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের দুই গোলেই দক্ষিণ আমেরিকার দলটির বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় উত্তর আমেরিকার এই প্রতিনিধিরা।

বিশ্বকাপের নকআউটে মেক্সিকোর সর্বশেষ জয়টি এসেছিল ১৯৮৬ সালে।সেবারও ঘরের মাঠে বুলগেরিয়াকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। দীর্ঘ চার দশক পর সেই একই স্টেডিয়ামে রাউল হিমিনেজ ও হুলিয়ান কিনিয়োনেসদের হাত ধরে ইতিহাস নতুন করে লিখল মেক্সিকানরা। ম্যাচের ২২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ডান পায়ের জোরালো শটে প্রথম গোলটি করেন উইঙ্গার কিনিয়োনেস। এর ঠিক ৯ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩১ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে কিনিয়োনেসের ফিরতি পাসে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমিনেজ নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ সময় ইকুয়েডর এগিয়ে থাকলেও আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় তারা গোল পায়নি। পুরো ৯০ মিনিটে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি মাত্র ৫টি শট নিতে পারে, যার মধ্যে কেবল ১টি ছিল পোস্টের ভেতরে। অন্যদিকে মেক্সিকো ১৪টি শটের মধ্যে ৩টি পোস্টে রেখে ২টিতেই সফলতা পায়। ম্যাচের শেষ দিকে, অর্থাৎ যোগ করা ৯৫ মিনিটে মেক্সিকান খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের জেরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের হস্তক্ষেপে লাল কার্ড দেখে ছাড়েন ইকুয়েডরের সেন্টারব্যাক পিয়নেরো হেনকাপিয়ে। বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হলেও গ্যালারিভর্তি দর্শকদের জয় উদযাপনে তা কোনো বাধা হতে পারেনি।

এই জয়ের ফলে ঘরের মাঠ আজতেকায় বিশ্বকাপে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখল মেক্সিকো। এবারের আসরে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার পাশাপাশি গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের সবকটিতে জেতা এবং কোনো গোল হজম না করা দলও তারা। মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক জয়ের রাতে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন ১৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচের শুরুর একাদশে মাঠে নামার বিরল কীর্তি গড়েন এই তরুণ। শেষ ১৬-র ম্যাচে এবার ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় স্বাগতিকেরা।