জুলাই ২১, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ বাঁশি বাজার পর ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল যখন অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। এটি কেবল একটি সান্ত্বনার কোলাকুলি ছিল না, বরং বিশ্বফুটবলের রাজদণ্ড এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।ফুটবল ইতিহাসের দুই প্রজন্মের এক অপূর্ব মিলনমেলা।
নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক যখন ৩৯ বছর বয়সি মেসির নাম ধরে উল্লাস করছিলেন, তখন কিংবদন্তি এই খেলোয়াড় তার বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বার্সেলোনার বর্তমান দশ নম্বর জার্সিধারী ইয়ামাল জড়িয়ে ধরলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাকে। ২০০৭ সালে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ২০ বছর বয়সি মেসির কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবিটি আজ এক অদ্ভুত বৃত্ত সম্পূর্ণ করল।
ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে ফিরে আসা এই তরুণ মাত্র উনিশ বছর ছয় দিন বয়সে একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের দুর্লভ কীর্তি গড়লেন। ফাইনালের মঞ্চে স্পেনের নান্দনিক ও সুশৃঙ্খল কৌশলের মূল ভিত্তি ছিলেন তিনি। স্পেনের হয়ে খেলা আটাশটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই ফরোয়ার্ড। বড় টুর্নামেন্টে মূল একাদশে থেকে টানা তেরো ম্যাচ জেতার রেকর্ডও এখন তার দখলে।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের একশ ছয় মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলেই স্পেনের নতুন সোনালি অধ্যায় রচিত হয়। প্রতিপক্ষের শারীরিক ও মানসিক চাপ এড়িয়ে মাঠে অসাধারণ পরিপক্বতা দেখিয়েছেন ইয়ামাল। ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট তার প্রশংসা করে জানান, চরম চাপের মুখেও তরুণ এই খেলোয়াড় যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন তা সত্যিই অনবদ্য। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও তার অবদানের কথা স্বীকার করে দলের জন্য তার আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। বিশ্বজয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে এক সোনালি ভবিষ্যৎ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন