অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৫:২১ পিএম
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার যে গভীর অন্ধকারে ডুবেছিল বাংলাদেশ দল, তা থেকে অবশেষে আলোর ঝলকানি দেখল মিরপুর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জ্বলে উঠল স্বাগতিকদের টপ অর্ডার। বিশেষ করে, দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং সাইফ হাসানের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ পেয়েছিল এক উড়ন্ত সূচনা। এই দুজনের অনবদ্য ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভর করে যখন তিনশ ছাড়ানো বিশাল স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই ছন্দপতন।
দুর্দান্ত এই প্ল্যাটফর্মের সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন পরের ব্যাটাররা। উদ্বোধনী জুটির বিদায়ের পর মিডল অর্ডারের মন্থর ব্যাটিংয়ে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রানেই থামতে হয়েছে বাংলাদেশকে। মিরপুরের উইকেটে এই স্কোর লড়াই করার মতো হলেও, এমন শুরুর পর তিনশ পেরোতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।
বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথম দুই ম্যাচের টপ অর্ডার ব্যর্থতার স্মৃতি ভুলে এদিন শুরু থেকেই ভিন্ন চেহারায় আবির্ভূত হন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। বিশেষ করে সৌম্য ছিলেন তার স্বভাবসুলভ ‘ঝোড়ো’ মেজাজে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের নতুন বলের সব চ্যালেঞ্জকে উড়িয়ে দিয়ে তারা দুজন সাবলীলভাবে রান তুলতে থাকেন। সাইফ হাসানও দেখেশুনে খেলে সৌম্যকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তাদের এই জুটিতে পাওয়ার প্লে-তে যেমন দাপট ছিল, তেমনি মাঝের ওভারগুলোতেও রান সচল রেখেছেন তারা। দুজনের বোঝাপড়ায় বাংলাদেশের রানের চাকা দ্রুত ঘুরতে থাকে। একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ আজ সাড়ে তিনশ রানের দিকেই হয়তো এগোচ্ছে।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে এমন দাপুটে পারফরম্যান্স দেখে স্টেডিয়ামের দর্শকরাও আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু দলীয় ১৭৬ রানের মাথায় এই বিধ্বংসী জুটির পতন ঘটলে দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টে যেতে শুরু করে। সৌম্য ও সাইফ—দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ের পর উইকেটে আসা পরের ব্যাটাররা সেই রানের গতি আর ধরে রাখতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা, যারা প্রথম ভাগে দিশেহারা ছিলেন, তারা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসেন।
বাংলাদেশের মিডল অর্ডার সেই চাপ সামলাতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের পাশাপাশি রানের গতিও শ্লথ হয়ে পড়ে। যে স্কোর একসময় তিনশ ছাড়িয়ে অনায়াসে সাড়ে তিনশ ছোঁয়ার কথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত তিনশ’র নিচেই আটকে যায়। শেষ দিকের ওভারগুলোতেও প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেটের বিনিময়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯৬ রান। টপ অর্ডারের এমন দুর্দান্ত সূচনার পর এই স্কোর নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। দলের বাকি ব্যাটাররা যদি ন্যূনতম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারতেন, তবে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড হয়তো ভিন্ন কথা বলতে পারতো। এই পুঁজি নিয়ে এখন বোলারদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
মিরপুরের উইকেটে ২৯৬ রান হয়তো একেবারে কম নয়, কিন্তু ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটির পর এই স্কোরই প্রমাণ করে, বাংলাদেশ একটি বড় সুযোগ হারিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, টাইগার বোলাররা এই ‘লড়াই করার মতো’ পুঁজি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে রেখে শেষ হাসি হাসতে পারেন কিনা। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে সৌম্য ও সাইফের ফর্মে ফেরা, যা দলের দীর্ঘদিনের টপ অর্ডারের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে আনবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন