নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ০১:২৮ পিএম
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন সোনালি হাসি। মাঠজুড়ে পাকা ধানের শীষে ভরে গেছে দিগন্ত। কয়েক দিনের মধ্যেই পুরোদমে ধান কাটার মৌসুম শুরু হবে।
যদিও কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে, বাকি স্থানগুলোতে চলছে ধান ঘরে তোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। কৃষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমনের ফলন অতীতের যেকোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার রামগতি ও কমলনগর উভয় উপজেলায় আমন ধানের আবাদ আশানুরূপ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে রামগতি উপজেলায় তেইশ হাজার ছয়শো পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সত্তর হাজার নয়শো পঞ্চাশ মেট্রিক টন। অন্যদিকে কমলনগরে আমনের আবাদ হয়েছে উনিশ হাজার একশো পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তিরাশি হাজার চারশো চুরানব্বই মেট্রিক টন। দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি।
রামগতি উপজেলার চরসীতা গ্রামের কৃষক কবির হোসেন তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। এখন শুধু একটাই চাওয়া, যদি বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাই, তাহলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। কমলনগরের চরপাগলা গ্রামের কৃষক রফিকউল্লাহও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, এবার সময়মতো বীজ ও সার পেয়েছেন এবং আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল বলেই ফলন অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। এখন শুধু দাম নিয়েই সামান্য উদ্বেগ রয়েছে।
রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান এবং কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইকতারুল ইসলাম জানান, চাষিদের উন্নত ও নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করা হয়েছিল। একইসঙ্গে সরকারিভাবে তাদের বিনামূল্যে বীজ ও সারও প্রদান করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। তারা আশা করছেন, বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলে কৃষকরা ভালো লাভবান হবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন