ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় এখন ইরি-বোরো ধান চাষের ধুম লেগেছে। উচ্চ ফলনের প্রত্যাশায় হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগাম আলু উত্তোলনের পর সেই জমিগুলোতে এখন বোরো চাষের জন্য পাওয়ার টিলার দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কৃষকেরা নির্বিঘ্নে চারা রোপণ করতে পারছেন।
এবার জেলার ইরি ও বোরো চাষযোগ্য জমির শতভাগ সেচ যন্ত্রকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া রাসায়নিক সারের কোনো সংকট যাতে না হয়, সেজন্য বাফার গুদামে পর্যাপ্ত মজুত রাখা হয়েছে। ১৩টি উপজেলায় ১২৬ জন বিসিআইসি ডিলার এবং তাঁদের অধীনে সাব-ডিলারদের মাধ্যমে সার সরবরাহ মনিটরিং করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ ও রোগবালাই দমনে নিরন্তর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার ব্রি-ধান ২৮, ২৯, ৮১, ৮৯, ৯২ ও ১০২ সহ হাইব্রিড জাতের হীরা ও সোনার বাংলা জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, সারি করে চারা রোপণ করায় পরিচর্যায় সুবিধা হয় এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়। তবে সার, বীজ ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি নিয়ে ক্ষুদ্র চাষিদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, উপকরণের দাম আরও সহনীয় হলে লাভের অঙ্ক বড় হতো। তবুও গোলার ধান ঘরে তোলার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও কাদা-পানিতে নেমে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।
গত বছর দিনাজপুরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল, যা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এবার নতুন উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার বাড়ায় উৎপাদন গতবারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং নিরবচ্ছিন্ন সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে দিনাজপুরে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশ্বস্ত করেছে স্থানীয় কৃষি প্রশাসন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন