মে ১৭, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষে ক্ষতি ও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন সাজ্জাদ হোসেন নামে এক স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা। ব্যাংকের ঋণ এবং দোকান থেকে সার-কীটনাশক বাকি নিয়ে প্রায় ১৮০ বিঘা বা ৬০ একর জমিতে তিনি এই চাষাবাদ করেছিলেন। সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত সেচ দেওয়ার পর পুরো ক্ষেত সবুজে ঢেকে গেলেও মৌসুমের শেষ সময়ে এসেও একটি গাছেও ফল ধরেনি।
এতে সব মিলিয়ে ওই কৃষকের প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লাখ টাকার নগদ লোকসান হয়েছে।লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে একর প্রতি ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে এই জমিগুলো নেওয়া হয়েছিল।
বোদা বাজারের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর পরামর্শে তিনি আলমগীর সীড কোম্পানির ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করেন। কোম্পানি থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ মেট্রিক টন ফলনের শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিন মাস পার হয়ে গেলেও জমিতে শুধু ফুল এসেছে, কোনো ফলের দেখা মেলেনি।
জমির মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমিতে প্রচুর গাছ হলেও একটিও ফল না আসায় মূলত বীজের ত্রুটির কারণেই এই মিষ্টি কুমড়া চাষে ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সার ও বীজ ব্যবসায়ী আরিফুল রহমান রাসেল জানান, কোম্পানির নির্দেশনা মেনে নগদ টাকা দিয়ে বীজ কিনে কৃষককে সরবরাহ করা হয়েছিল। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এখন বীজ কোম্পানি নানাভাবে টালবাহানা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসা ভুক্তভোগী কৃষক সাজ্জাদ হোসেন এখন বীজ কোম্পানির কাছ থেকে আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে বীজ কিনে কৃষকের প্রতারিত হওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কার্যালয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল ইতিমধ্যে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এই বিষয়ে গভীর তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন