শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রানীশংকৈলে কেঁচো সারে নুরেশার ভাগ্যবদল, মাসে আয় লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ৩, ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

রানীশংকৈলে কেঁচো সারে নুরেশার ভাগ্যবদল, মাসে আয় লাখ টাকা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আটকরা গ্রামের বাসিন্দা নুরেশা আক্তার কেঁচো দিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে নিজের জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন। একসময় সংসারের তীব্র অভাব-অনটন ও নিত্যদিনের আর্থিক টানাপোড়েন ঘোচাতে নতুন কিছু করার অবিরত স্বপ্ন দেখতেন এই সাহসী ও সংগ্রামী গৃহবধূ। 

একদিন ইন্টারনেট দুনিয়ায় কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের একটি তথ্যবহুল ভিডিও দেখে তিনি সপরিবারে পরীক্ষামূলকভাবে এই অভিনব কৃষি উদ্যোগ শুরু করেন।গ্রামীণ জনপদের নারীদের মেধা ও সঠিক ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কুটির শিল্পের প্রসার ঘটানো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক বড় হাতিয়ার।

নুরেশার এই ক্ষুদ্র পারিবারিক প্রচেষ্টা খুব দ্রুত সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করলে স্থানীয় উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। 

সরকারি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় খামারে আধুনিক উৎপাদন ঘর, পিট এবং প্রয়োজনীয় সেপারেটিং ও সিলিং মেশিন পাওয়ার মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বাজারে এই সারের বাণিজ্যিক চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৩ সালে তাঁর স্বামী স্বল্প বেতনের চাকরি ছেড়ে সরাসরি এই খামারে যুক্ত হন এবং ‍‍`ফসল বন্ধু জৈব সার‍‍` নামে এটি প্যাকেটজাত করে বাজারজাতকরণ শুরু করেন।রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা মাটির উর্বরতা শক্তি ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে তাঁর স্বনামধন্য ‍‍`মেসার্স নুরেশা অ্যাগ্রো ফার্ম‍‍`-এ ২টি বড় উৎপাদন শেড এবং ৫০টি রিং থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ মেট্রিক টন জৈব সার ও ১০ কেজি মূল্যবান কেঁচো সফলভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। সব ধরনের উৎপাদন ও বিপণন ব্যয় বাদ দিয়ে নুরেশা আক্তার এখন প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ টাকা নিট লাভ করছেন এবং খামারে আরও তিনজন অসহায় গ্রামীণ নারীর স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এই অভাবনীয় ও অনুকরণীয় সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর এই জৈব সার গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।