জুন ৫, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
জুন ও জুলাই মাস সবজি চাষের জন্য বেশ উপযুক্ত সময়। এই সময়ে আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে কৃষক ভাইয়েরা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি আবাদ করেন। বাজারে আগাম সবজি পৌঁছাতে পারলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি পাওয়া যায়। সবজিভেদে সঠিক জাত নির্বাচন ও পরিচর্যা পদ্ধতি জানলে উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব।
মাঠ পর্যায়ে চাষাবাদের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় বা ছোট জায়গায় সবজি ফলানোর সুযোগ থাকে প্রচুর। মূলত বিশ ধরনের সবজি চাষ করে এই সময়ে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। মাটি ভালোভাবে প্রস্তুত করে বীজ বপন করলে ফলন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়া নিশ্চিত।সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই দুই মাসে কৃষিকাজে সাফল্য পাওয়া নিশ্চিত।
শিম চাষের জন্য এখনই বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। আগাম বাজার দর পাওয়ার জন্য শিমের বীজ সংগ্রহ করে জলে ভিজিয়ে রাখা ভালো। ঢেঁড়স বা ভেন্ডি চাষ করে প্রতিদিন আয় করা যায় কারণ এতে খরচ কম এবং ফলন প্রচুর।
লাউ চাষের ক্ষেত্রে ডগা কাটিং পদ্ধতি অনুসরণ করলে গাছে দ্রুত ফলন পাওয়া সম্ভব। করলা চাষ করার সময় পরাগায়নের দিকে খেয়াল রাখতে হয়, তবে লাভজনক হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুনদল চাষের জন্যও এই সময়টি বেশ উপযোগী এবং নিয়মিত পরিচর্যায় ভালো ফল পাওয়া যায়। বীজ বপনের আগে ১২ ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখা জরুরি।ফসল অনুযায়ী নির্দিষ্ট যত্ন ও সার প্রয়োগ জরুরি।পেঁপে চাষের জন্য গ্রিন লেডি বা রেড লেডি জাতের চারা রোপণ করা ভালো। একটি গর্তে দুটি চারা লাগালে ঝুঁকি কমে এবং ফলন ভালো হয়।
টমেটোর ক্ষেত্রে বর্ষাকালের বিশেষ জাত বেছে নিতে হবে যা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। মরিচ চাষে পাতা কোঁকড়ানো রোগ দেখা দিলে বাটি খুঁড়ে জল ও সার দিতে হয়। বাঁশ বা লাঠি দিয়ে গাছ সোজা রাখা মরিচ চাষের জন্য বেশ কার্যকর। পটল চাষের সময় শিমের মাচা ব্যবহার করা গেলে একই জমিতে বাড়তি ফলন পাওয়া যায়। গাছে ফুল আসার পর নিয়মিত জল দেওয়া খুব জরুরি।
সবজির রোগবালাই দমনে সচেতন থাকা কৃষকের প্রথম কাজ।মিষ্টি কুমড়া চাষের জন্য লতানো গাছের আগা কেটে দিলে ফুল দ্রুত আসে। পুইশাক ও ডাটা শাকের মতো দ্রুত উৎপাদনশীল সবজি চাষে খরচ খুবই কম। জায়গা কম থাকলে গাজর বা বিটরুট চাষ করেও ভালো আয় করা সম্ভব। বেগুন চাষের ক্ষেত্রে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ এবং পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করা জরুরি। ওল কচু বা মুখী কচুর মতো সবজি ছায়াযুক্ত স্থানেও অনায়াসে চাষ করা যায়। সবজির গোড়ার মাটি উঁচু করে দিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে জৈব সার ও পরিমিত রাসায়নিক সারের সমন্বয় প্রয়োজন।
ছোট পরিসরে শুরু করলেও সঠিক পদ্ধতিতে আবাদ করলে সমৃদ্ধি সম্ভব।সবজি চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার ফলনের গুণমান বজায় রাখে। পোকামাকড় থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। জুন ও জুলাই মাসে এই সবজিগুলোর যত্ন নিলে সারা বছর বাজারে সবজির সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীন পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে কৃষকরা এখন আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সফল চাষাবাদ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি ধাপে ধৈর্য ও পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করলে যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন