জুন ৭, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
হাওড়াঞ্চলের অতি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বোরো ধান রক্ষায় নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। উচ্চফলনশীল নতুন এই জাতটির নাম ব্রি ধান ১১৮।নতুন উদ্ভাবিত এই ধান চাষ করলে প্রচলিত সময়ের চেয়ে দুই মাস আগেই ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জসহ সাত জেলার হাওড়ে ৪৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এতে হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে ফসল হারানোর শঙ্কায় থাকেন হাওড়পাড়ের বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সাইন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানান, ব্রি ধান ১১৮ অত্যন্ত শীত সহনশীল। কার্তিক মাসে অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই ধান লাগানো সম্ভব। ফলে বর্ষা মৌসুমের আগেই ফসল কেটে ঘরে তোলা যাবে। পাহাড়ি ঢল ও বন্যার ঝুঁকি এড়াতে এটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক হুমায়ূন কবীর জানান, দ্রুত কৃষকের মাঝে এই বীজধান ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে নতুন এই জাত।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে এই ধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে। হাওড়বাসীর শঙ্কা দূর হবে, বাড়বে ফসলের নিরাপত্তা।২০১৭ সাল থেকে চলতি মৌসুম পর্যন্ত আকস্মিক বন্যায় প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। এই নতুন জাতের ধান হাওড়বাসীর দীর্ঘদিনের ফসল হারানোর আর্তনাদ কমাবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন