সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমদানিকৃত ফল আলু বোখরা এখন চাষ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার মাটিতে

কৃষি ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

আমদানিকৃত ফল আলু বোখরা এখন চাষ হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার মাটিতে

বাংলাদেশের মাটিতে সাধারণত আমদানিনির্ভর ও দামী বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আলু বোখরা চাষে অভাবনীয় সফলতা মিলেছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার এক প্রদর্শনী প্লটে বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের ব্যাপক ফলন দেখে কৃষি খাতের সংশ্লিষ্টরা অভিভূত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা সজল ভিয়েতনামী জাতের এই ফলের গাছ লাগিয়ে মাত্র দুই বছর তিন মাসের মাথায় প্রথমবার এই সফলতা পেয়েছেন।

এই বাগানের ১০০টি গাছের প্রতিটি ডগায় এখন থোকা থোকা ফল ঝুলছে।বর্তমানে এক-একটি গাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত আলু বোখরা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসার পর মাত্র দুই মাসের মাথায় ফল পরিপক্কতা পেতে শুরু করেছে। তবে ফুল থেকে ফল বাজারজাত করার জন্য সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচ মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফলের গায়ে চমৎকার উজ্জ্বল লালচে ও কালচে রঙের আভা ফুটে ওঠে।

বাজারে সাধারণ আমদানিকৃত শুকনো আলু বোখরা এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখানকার কাঁচা ফল মাত্র ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনের বিপুল চাহিদার কারণে বাগান থেকেই সরাসরি এই ফল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে উদ্যোক্তা জানান। বেলে বা দোআঁশ যেকোনো মাটিতে এবং বাড়ির ছাদের ওপরে ছোট হাফ ড্রাম বা জিও ব্যাগের মধ্যেও এই গাছ অনায়াসে চাষ করা সম্ভব।

বীজ থেকে চারা তৈরি করলে ফল আসতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগে এবং ফলনও অনেক কম হয়। এই জন্য বাগান মালিক নিজস্ব মাতৃগাছ থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উন্নত মানের কলমের চারা তৈরি করছেন। বর্তমানে এক-একটি কলমের চারা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা রোপণের এক বছরের মধ্যেই ফল দিতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।