মার্চ ১০, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
দেশের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় কৃষকরা ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। তবে গত কয়েকদিনের অনাবৃষ্টি নিয়ে চাষিদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।
এই বিপুল পরিমাণ জমি থেকে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন।
কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার সার ও বীজের দাম তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। টংগীবাড়ী ও সদর উপজেলার চাষিদের মতে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হলে কৃত্রিমভাবে সেচ দিতে হবে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে প্রান্তিক চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
তবে নিয়মিত বৃষ্টি হলে এবার গত বছরের তুলনায় ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, বাজার সিন্ডিকেট মুক্ত থাকলে গত বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, মুন্সীগঞ্জের আলুর আবাদকে লাভজনক করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এবার প্রায় ৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি উপযোগী উন্নত জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। এছাড়া সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে খামারি অ্যাপস এর মাধ্যমে চাষিদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে জমির আর্দ্রতা বজায় রাখতে কৃষকদের বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন