সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চুয়াডাঙ্গায় আলুবোখারার বাণিজ্যিক চাষে অভাবনীয় সাফল্য

কৃষি ডেস্ক

জুন ১৩, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় আলুবোখারার বাণিজ্যিক চাষে অভাবনীয় সাফল্য

বাংলাদেশের মাটিতে বিদেশি ফল আলুবোখারার বাণিজ্যিক চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সজল। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা এই ফলটি দেশের বাজারে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও, সজল তার উৎপাদিত ভিয়েতনামের এই জাতের আলুবোখারা পাইকারি পর্যায়ে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। 

আজ থেকে প্রায় দুই বছর তিন মাস আগে মাত্র এক ফুট উচ্চতার চারা ১২ ফুট দূরত্বে রোপণ করে তিনি এই বাগানটি গড়ে তোলেন এবং বর্তমানে প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন। চারা রোপণের সময় মাটির জীবাণু ধ্বংস করতে ফিপ্রোনিল ও ফুরাডান এবং শেকড় বৃদ্ধির জন্য হিউমিক এসিড ব্যবহার করা হয়, যার ফলে এই গাছে রোগবালাই প্রায় নেই বললেই চলে। 

বেলে থেকে শুরু করে দোআঁশ এমনকি পাহাড়ি বা ছাদেও এই গাছটি অনায়াসে চাষ করা সম্ভব এবং টানা এক সপ্তাহ পানি জমে থাকলেও গাছের কোনো ক্ষতি হয় না। এই ফলের গাছ প্রুনিং বা ছাঁটাই করার প্রয়োজন হয় না, বরং গাছ যত বড় ও ঝোপালো হয়, ফলের পরিমাণ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে সজলের বাগানে প্রতি ২০ থেকে ২২টি ফলের ওজন এক কেজি হচ্ছে, যদিও সঠিক পরিচর্যা ও জিবরেলিক এসিড ব্যবহার করলে ফলের আকার আরও বড় করা সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।

 পুষ্টিগুণে ভরপুর এই আলুবোখারায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ই, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি হাড় মজবুত করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিরিয়ানি, চাটনি বা ছোট মাছের সাথে রান্নাসহ নানাভাবে খাওয়ার জন্য অনলাইনে দেশব্যাপী প্রচুর ক্রেতা এই ফলটি সংগ্রহ করছেন। বাণিজ্যিক এই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সজল তার প্রথম বছরের ফলনের পরই ডাল কেটে টেপ কলমের মাধ্যমে চারা তৈরি শুরু করেছেন, যা আকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সজলের এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এখন আলুবোখারা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং তার বাগান পরিদর্শন করে সরাসরি চারা সংগ্রহ করছেন।