জুলাই ১৫, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম
আলাদা কোনো জমি কিংবা বাড়তি পরিচর্যার ঝামেলা ছাড়াই কুড়িগ্রামের কৃষকরা এখন চুইঝাল চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। সুপারি, আম ও অন্যান্য গাছের গোড়ায় লতানো এই উদ্ভিদ রোপণ করে কৃষকরা একদিকে যেমন খরচ কমাচ্ছেন, অন্যদিকে পাচ্ছেন বাড়তি আয়ের সুযোগ। মূলত কুড়িগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা এই সম্ভাবনাময় মসলাজাতীয় ফসল চাষে ঝুঁকেছেন।
চুইঝাল চাষে বাড়তি কোনো জায়গার প্রয়োজন হয় না। যাদের বাড়িতে সুপারি বাগান বা আম গাছ আছে, তারা অনায়াসেই গাছের গোড়ায় চুইঝালের চারা রোপণ করছেন।স্থানীয় কৃষকদের মতে, চুইঝাল চাষে খরচ অত্যন্ত কম এবং একবার চারা লাগালে বছরের পর বছর ফলন পাওয়া যায়। বিনা সারেই এই গাছ বেড়ে ওঠে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতি মণ চুইঝাল আট থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের ভালো চাহিদা থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি এসে এখান থেকে মসলাজাতীয় এই ফসল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঈদুল ফিতর বা কোরবানির মতো উৎসবের মৌসুমে এর চাহিদা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।কৃষি বিভাগের মতে, চুইঝাল কুড়িগ্রামের ভবিষ্যতে একটি অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিতে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।
যেসব কৃষকের বাড়িতে সুপারি বাগান আছে, তারা যেন বিশেষ কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই আবাদটি করতে পারেন, সেই পরামর্শই নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।উন্নত চারা সরবরাহ, পরিকল্পিত চাষাবাদ এবং আধুনিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে চুইঝাল চাষ ভবিষ্যতে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন