শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি: শৈশবের ভয় ও বিশ্বাসের গল্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম

নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি: শৈশবের ভয় ও বিশ্বাসের গল্প

ছবি - সংগৃহীত

মনের ভেতরের ভয়কে জয় করার সবচেয়ে বড় শক্তি কী? কোনো অলৌকিক তাবিজ, নাকি নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস? এমনই এক গভীর প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে দুই বন্ধুর সরল এক গল্পের মাঝে। গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে বড় জাদু আসলে লুকিয়ে থাকে আমাদের বিশ্বাসেই।

হেমন্তের এক শান্ত সকাল। সবুজ ধানের ক্ষেত আর পাখির কলতানে মুখর এক গ্রামে বাস করত দুই বন্ধু—হাবিব আর সুলতান। দুজনেই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সারাদিন একসঙ্গে খেলাধুলা, গাছে চড়া আর নদীতে সাঁতার কেটেই তাদের দিন কাটত। কিন্তু দুজনের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য ছিল। হাবিব ভূত-প্রেতে খুব ভয় পেত, আর সুলতান এসবে একেবারেই বিশ্বাস করত না।

রাত নামলেই হাবিবের মনে ভর করত রাজ্যের ভয়। অন্যদিকে, সুলতান সব সময় বন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টা করত, ভূত বলে কিছু নেই, সবই মনের কল্পনা।কিন্তু হাবিবের ভয় কাটে না। একদিন সুলতানের মাথায় এক বুদ্ধি এলো। সে একটি ছোট কাঠের টুকরো জোগাড় করে সুন্দর করে ঘষে গোলাকার একটি বস্তু তৈরি করল। পরদিন সকালে সেটি হাবিবের হাতে দিয়ে বলল, “অনেক বড় এক হুজুর এটা আমাকে দিয়েছে। যার কাছে এই জিনিস থাকবে, ভূতের সাধ্য নেই তার কাছে আসে।”

হাবিব কাঠের টুকরোটি হাতে নিয়েই যেন এক আশ্চর্য শক্তি পেল। তার চোখ থেকে ভয়ের ছায়া মিলিয়ে গিয়ে একরাশ শান্তি নেমে এলো। সেদিন থেকে হাবিব আর আগের মতো ভয়ে কাঁপত না। রাতে একা বাইরে যেত, অন্ধকার পথে হাঁটত। তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল—এই কাঠের টুকরোটিই তাকে সকল ভয় থেকে রক্ষা করছে।

কিন্তু আসল জাদু তো ছিল অন্য কোথাও। কাঠের টুকরোয় কোনো শক্তি ছিল না; সমস্ত শক্তি ছিল হাবিবের মনে। তার বিশ্বাসই তাকে ভয় থেকে মুক্তি দিয়েছিল। আর এই বিশ্বাসটি তার মনে জাগিয়ে তুলেছিল তার প্রিয় বন্ধু সুলতান। এই গল্প আমাদের শেখায়, বাইরের কোনো শক্তির চেয়ে নিজের মনের সাহস আর বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।