রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধায় শ্রদ্ধা জানাতে পারলেন না রুমি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৫:১৮ এএম

বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধায় শ্রদ্ধা জানাতে পারলেন না রুমি

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার জন্য আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন, যার ফলে সেখানে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা রাত পৌনে ১২টার দিকে সরাইল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন। 

তিনি ও তার সমর্থকরা পুষ্পস্তবক নিয়ে বেদীর সামনে দাঁড়ালে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তারা রুমিন ফারহানাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। 

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা তার হাতের পুষ্পস্তবকটি কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরেই শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরে যেতে হয়।এই ঘটনার প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম মেনেই তিনি প্রথমে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। 

কিন্তু বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েও যদি স্থানীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এর পরিণতি দলের জন্য ভয়াবহ হবে।রুমিন ফারহানা বিষয়টিকে দলের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এমন হিংস্রতা দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। অন্যদিকে, জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।