মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনের অদূরে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর দুইটার দিকে বাগবাড়ী দক্ষিণপাড়া নামক স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ট্রেনের শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেলযোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে সান্তাহার স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সান্তাহার স্টেশনের কাছাকাছি বগারবাড়ী এলাকায় রেললাইনের সংস্কার কাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী ওই স্থানে লাল পতাকা বা লাল ব্যানার টাঙানো ছিল এবং কন্ট্রোল রুম থেকে যথাযথ সিগন্যাল প্রদান করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ট্রেনের চালক সব ধরনের সংকেত এবং রেলকর্মীদের হাতের সিগন্যাল উপেক্ষা করে প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ট্রেনটি মেরামতাধীন লাইনের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেন। এর ফলে বিকট শব্দে ট্রেনের পাওয়ার কারসহ নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় আহতদের অধিকাংশই ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছিলেন বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেরই হাত-পা ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সান্তাহার জংশনের ওয়েম্যান সোহেল জানান, লাইনে কাজ চলায় প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উভয় পাশে লাল পতাকা দিয়ে সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মিস্ত্রিরা রেললাইন কেটে মেরামতের কাজ করছিলেন। কিন্তু চালক ট্রেনের গতি না কমিয়ে সরাসরি লাইনের ওপর চলে আসেন। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে কেন চালক এতগুলো সতর্ক সংকেত এড়িয়ে গেলেন।
এদিকে সহকারী স্টেশন মাস্টার বরখাস্ত হলেও স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে নির্দিষ্ট করে কাউকে এককভাবে দায়ী করা সম্ভব নয়। বর্তমানে রেললাইন সচল করতে ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো উদ্ধার করে লাইন মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গগামী বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদের এই সময়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন