মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যার শিকার নিরস্ত্র বাঙালিদের স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও ‘লালযাত্রা’র আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রাচ্যনাট। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই ব্যতিক্রমী পদযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের লালযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত সব গণহত্যার বিচার এবং শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন। দীর্ঘ কালরাত্রির প্রাক্কালে যে রক্তের পথ ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রাচ্যনাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচিটি কেবল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন মানবতার সপক্ষে এটি একটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
ফিলিস্তিন ও গাজা থেকে শুরু করে লেবানন, ইউক্রেন, রাশিয়া, সুদান কিংবা ইরান ও আমেরিকার ক্ষমতার লড়াইয়ে যে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরছে, তার বিরুদ্ধেও লালযাত্রা দ্রোহ প্রকাশ করবে। সব ধরনের যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নাট্যকর্মীরা হাতে হাত মিলিয়ে এই পদযাত্রা সম্পন্ন করবেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর বা টিএসসি থেকে শুরু হয়ে এটি স্মৃতি চিরন্তন বা ফুলার রোড পর্যন্ত অগ্রসর হবে।
স্মর্তব্য যে, ১৯৭১ সালের কালরাত্রির শহীদদের স্মরণে এবং ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি নিয়ে ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত এই কর্মসূচি পালন করে আসছে প্রাচ্যনাট। প্রতিবছর এই দিনে লাল পোশাকে নাট্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এক শোকাতুর এবং প্রতিবাদী আবহের সৃষ্টি হয়। এই আয়োজনে ব্যবহৃত লাল রং মূলত শহীদদের রক্ত এবং মহান আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। শহীদদের রক্তে ভেজা এক নতুন ও উন্নত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় প্রতিবছরই এই পদযাত্রাটি দেশপ্রেমিক মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন