শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সুখবর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে সুখবর

দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু করার জোরদার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করবে।

শুক্রবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এই বড় সুখবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর আগামী ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এটি মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কমিশনিংয়ের পূর্ববর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ জুলাই মাসের শেষ দিকে বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। 

প্রাথমিক পর্যায়ে এখান থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।এর আগে যথাযথ লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত ৭ এপ্রিল নির্ধারিত প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এই বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, পূর্ববর্তী উদ্বোধনের ক্ষেত্রে কিছু সূক্ষ্ম কারিগরি ইস্যু সামনে এসেছিল যা সমাধানের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন ছিল। 

বর্তমানে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হওয়ায় এবং সব পক্ষ একমত হওয়ায় গত ১৬ এপ্রিল এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড বা এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রটি নিরাপদে পরিচালনার জন্য ৫২ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। জ্বালানি লোডিংয়ের পর বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে চূড়ান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষণ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। 

সব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়া শুরু হবে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।অপেক্ষাকৃত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং এই কমিশনিং ধাপে এনপিসিবিএল-এর অপারেটররা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সফলভাবে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়া মানেই হলো বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর এলিট ক্লাবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করল। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমাধান নয়, বরং দেশের প্রকৌশল খাতের জন্য একটি বিশাল বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।