এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখী ঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা। শনিবার ভোর পৌনে ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক দুর্যোগে গাছ উপড়ে পড়ে চারটি পরিবারের অন্তত ছয়টি বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের সময় ঘরচাপা পড়ে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থল থেকে জানা গেছে, সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাকশিড়ি এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতায় একটি বিশাল গাছ উপড়ে নিজাম উদ্দিনের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও নিজাম উদ্দিন ঘরের ভেতরেই আটকা পড়েন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এই দুর্যোগে নিজাম উদ্দিন ছাড়াও লালন, নাজমুল ও নুর আলমের পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে এই পরিবারগুলোর সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মজুত করা খাদ্যশস্য বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।
কালবৈশাখীর এই তাণ্ডবে কেবল ঘরবাড়ি নয়, কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বাতাসে ভুট্টা, পাট ও মরিচের খেত মাটির সাথে মিশে গেছে। হঠাৎ এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করলেও ঝড়ের আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হতে বসেছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আলমগীর কবীর জানিয়েছেন, আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারিভাবে দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন