মে ১২, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কবির বিন সামাদের বিরুদ্ধে এক বিবাহিত নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।অভিযোগকারী ওই নারী কবির বিন সামাদের প্রতিষ্ঠিত `তানযীমুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা`র সাবেক অফিস সহকারী।
তিনি জানান, চাকরির সময় কবির বিন সামাদ তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন এবং এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তিনি বিবাহিত এবং তার সন্তান থাকার বিষয়টি জানার পরেও ওই প্রার্থী এমন আচরণ করেছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, "সে জানত আমি বিবাহিতা, আমার স্বামী ও একটি সন্তান আছে। একজন নারী হিসেবে আমি বুঝতে পেরেছি তার দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক ছিল না। এই বিষয়টি নিয়ে আমার সংসারে অনেক অশান্তি হয়েছে।"অভিযোগের বিষয়ে কবির বিন সামাদ জানান, তিনি ওই নারীকে পছন্দ করতেন।
তবে তার দাবি, তিনি জানতেন ওই নারী তালাকপ্রাপ্ত এবং সেই ধারণা থেকেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল আলিম জানান, তাকে নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচনার সময় বিষয়টি দলের জানা ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রার্থীর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, যে ব্যক্তি নিজের প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি, তিনি পুরো ইউনিয়নের দায়িত্ব কীভাবে নেবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
যশোর জেলা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন জুড়ে এখন আলোচনা-সমালোচনা চলছে।মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত আর না বাড়লেও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা যোগ্য ও সৎ মানুষের হাতে ইউনিয়নের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন